নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক সপ্তাহ না পেরোতেই তিব্বতে ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের (জিএফজেড) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
জার্মান ভূবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
২৬ আগস্ট জিরং সীমান্তের কাছে ভয়াবহ বন্যার পর তিব্বতে যখন উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চলছিল, ঠিক সেই সময়ই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ফলে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে অঞ্চলটির মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে নেপালে বন্যা পরিস্থিতিতে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাসুয়া বন্যা দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ২৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো ৪ হাজার ২১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মাত্র ৯৫ জনের মরদেহ শনাক্ত করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের ‘জেন-জি’ আন্দোলনের পর এটিই নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওই আন্দোলনে ৭৭ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৮৪ বিলিয়ন নেপালি রুপিরও বেশি মূল্যের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল।
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তিব্বতে ভূমিকম্প আঘাত হানায় হিমালয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।