
মার্কিন লেখক, বাগ্মী এবং বিশ্বজুড়ে নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব গ্লোরিয়া স্টাইনেম ৯২ বছর বয়সে মারা গেছেন। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে লিঙ্গসমতা ও নারীদের প্রজনন অধিকার নিয়ে লড়াই করা এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুর খবরটি বৃহস্পতিবার তাঁর ফাউন্ডেশনের এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে নিশ্চিত করা হয়। ১৯৬০-এর দশকের শেষভাগ থেকে নারীবাদী আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হওয়া গ্লোরিয়া বুধবার শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।
স্মিথ কলেজ থেকে স্নাতক শেষে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা গ্লোরিয়া ১৯৬৩ সালে ছদ্মবেশে একটি প্লেবয় ক্লাবে 'বানি' হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা 'এ বানিস টেল' নামক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি নারীদের প্রতি বৈষম্য ও কম মজুরির ভয়ংকর চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে উন্মোচন করে। পরবর্তীতে তিনি 'মিস ম্যাগাজিন'-এর মাধ্যমে গতানুগতিক রূপচর্চা বা রান্নার খবরের বদলে নারীদের সমান মজুরি, পারিবারিক সহিংসতা এবং গর্ভপাতের অধিকারের মতো সাহসী বিষয়গুলো নিয়ে সরব হন।
| কর্মের ধরন | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রকাশনা ও প্রবন্ধ | 'নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিন' প্রতিষ্ঠায় সহায়তা এবং আলোচিত প্রবন্ধ 'আফটার ব্ল্যাক পাওয়ার, উইমেন্স লিবারেশন' প্রকাশ (১৯৬৮)। |
| বই ও আত্মজীবনী | 'মাই লাইফ অন দ্য রোড' (২০১৫), আত্ম-উন্নয়নমূলক 'রেভোলিউশন ফ্রম উইথিন' এবং 'মেরিলিন: নরমা জিন' (১৯৮৬)। |
| সংগঠন প্রতিষ্ঠা | কোয়ালিশন অফ লেবার ইউনিয়ন উইমেন, উইমেন্স মিডিয়া সেন্টার এবং ভোটারস ফর চয়েস গঠন। |
| প্রামাণ্যচিত্র | এমি বিজয়ী 'মাল্টিপল পার্সোনালিটিজ' (১৯৯৩) এবং ভাইস্ল্যান্ডের 'উইমেন' সিরিজের সঞ্চালনা। |
গ্লোরিয়া স্টাইনেম বিয়ে ও সমাজের প্রথাগত সীমাবদ্ধতার কড়া সমালোচক ছিলেন। তাঁর মতে, "পুরুষরা ঘরের ভেতরে নারীদের সমান না হওয়া পর্যন্ত নারীরা ঘরের বাইরে সমান হতে পারবে না।" জীবনে কোনো সন্তান না নেওয়া এই মহীয়সী ৬৬ বছর বয়সে পরিবেশবাদী ডেভিড বেলকে বিয়ে করে সবাইকে চমকে দেন এবং প্রমাণ করেন যে নারীবাদ মানেই হলো নিজের জীবনের সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। তাঁর জীবনীকার ক্যারোলিন হেইলব্রুন তাঁকে যথার্থই "নারী সৌন্দর্য ও নারী বিপ্লবের নিখুঁত সমার্থক" হিসেবে বর্ণনা করেছেন।