
একজন শিক্ষার্থী একই সময়ে বিশ্বের ১৪টি নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন—শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাংলাদেশের বৃষ্টি শিকদারের ক্ষেত্রে ঠিক এমনটাই ঘটেছিল। হার্ভার্ড, প্রিন্সটন, স্ট্যানফোর্ড, ক্যালটেকের মতো মহীরুহদের পেছনে ফেলে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (MIT)। সেখান থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে বর্তমানে তিনি প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল (Google)-এর সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।
বৃষ্টির প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় স্কুলজীবনেই। ২০০৮ সালে একটি প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর এই অসামান্য যাত্রার শুরু। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন তাঁকে প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে দারুণ দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে। ২০১২ সালে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড ইন ইনফরমেটিক্স (IOI)-এ ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালে এশীয়-প্যাসিফিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডেও ব্রোঞ্জ এবং ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
| সাল | প্রতিষ্ঠান | পদের নাম / ভূমিকা |
|---|---|---|
| ২০১৫ | ইন্টার্নশিপ (গুগল ট্রান্সলেট টিম) | |
| ২০১৬ | Quora | সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টার্ন |
| ২০১৭ | Bridgewater Associates | ইন্টার্নশিপ |
| ২০১৮ | Google DeepMind | ইন্টার্নশিপ |
| ২০১৮ (স্নাতক শেষে) | Rubrik | সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার (I ও II) |
| ২০২১ - বর্তমান | সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার |
এমআইটি-তে (MIT) প্রথম বর্ষে থাকাকালীনই বৃষ্টি গুগলে ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। স্নাতক সম্পন্ন হওয়ার আগেই Quora, Bridgewater Associates এবং Google DeepMind-এর মতো প্রতিষ্ঠানে কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ২০১৮ সালে স্নাতক শেষে Rubrik-এ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ডিস্ট্রিবিউটেড ফাইল সিস্টেম নিয়ে কাজ করেন এবং দক্ষতার জোরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার-২ পদে উন্নীত হন।
২০২১ সালে আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড়। গুগলে লেভেল-৪ পদের জন্য সাক্ষাৎকার দিলেও, তাঁর অসাধারণ দক্ষতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনা করে তাঁকে সরাসরি লেভেল-৫ অর্থাৎ সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যে প্রতিষ্ঠানে তিনি ইন্টার্ন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন, কয়েক বছরের ব্যবধানে সেখানেই বড় দায়িত্বে ফিরে আসেন তিনি।
শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়াই নয়, অন্য নারীদের প্রযুক্তিতে আগ্রহী করে তুলতে ২০২০ সালে বৃষ্টি চালু করেন ‘Journeys in Tech’ নামের একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি খাতে সফল বাংলাদেশি নারীদের গল্প তুলে ধরে তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগানো হচ্ছে। একটি ছোট্ট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে এমআইটি এবং গুগল—বৃষ্টি শিকদারের এই দীর্ঘ যাত্রা প্রমাণ করে প্রবল ইচ্ছে আর প্রস্তুতি থাকলে বিশ্বের যেকোনো মঞ্চেই নিজের জায়গা করে নেওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে নিজের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন এই অদম্য মেধাবী।