
রাশিয়ায় বাবুর্চির কাজের লোভ দেখিয়ে ইউক্রেনের সরাসরি ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল লক্ষ্মীপুরের জাহাঙ্গীর আলমকে। কোনো রকম পূর্বপ্রশিক্ষণ ছাড়াই হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র। ভয়াল যুদ্ধের থাবা থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে দেশে ফিরে তিনি প্রকাশ করেছেন এক বিভীষিকাময় সত্য। মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো সনাতন শ্রমবাজারগুলো থমকে থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো অপ্রচলিত দেশে পা বাড়াচ্ছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি, যেখানে ওত পেতে আছে পাচারকারী চক্র।
মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান কিংবা বাহরাইনের মতো ঐতিহ্যবাহী শ্রমবাজারগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ বা সংকুচিত অবস্থায় রয়েছে। যদিও বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে বাজারগুলো ফের উন্মুক্ত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে—যেমন গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর দেশটির পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল—তবুও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় মরিয়া হয়ে প্রবাসীরা ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা রাশিয়া-কম্বোডিয়ার মতো অনিশ্চিত গন্তব্যে পা বাড়াচ্ছেন।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালে রেকর্ড ১২,২৬৩ জন বাংলাদেশি ছাড়পত্র নিয়ে কম্বোডিয়ায় গিয়েছেন, যা দেশটির অবস্থানকে ৮ নম্বরে তুলে এনেছে। অন্যদিকে ৪,৭২৭ জন ছাড়পত্র নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছেন, যা লেবানন বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের চেয়েও বেশি। উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের বিপরীতে এই অপ্রচলিত দেশগুলোতে সুরক্ষা না থাকায় মানবপাচারকারী দালালদের ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছেন সাধারণ কর্মী ও তাঁদের পরিবার।
| গন্তব্য দেশ | বিএমইটি অবস্থান | কর্মী সংখ্যা (২০২৫) | মূল ঝুঁকি/অবস্থা |
|---|---|---|---|
| কম্বোডিয়া | ৮ম স্থান | ১২,২৬৩ জন | অনলাইন স্ক্যাম ও সাইবার পাচার |
| রাশিয়া | ১৩তম স্থান | ৪,৭২৭ জন | যুদ্ধক্ষেত্রে বাধ্যকরণ ও প্রতারণা |
| মালয়েশিয়া/ওমান/ইউএই | প্রচলিত বাজার | ধীরগতি/বন্ধ | পুনরায় খোলার চেষ্টা চলছে |