
বর্ষা মৌসুম পার হলেও থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মক্ষম তরুণরা। শুধু সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম পাঁচ দিনেই ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫,১৮৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় একদিকে পরিবারে আর্থিক সংকট তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে প্রভাব পড়ছে কর্মক্ষেত্রে।
রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ বিভিন্ন ডেডিকেটেড হাসপাতালে শয্যা খালি পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তি অনেক তরুণ গার্মেন্টস কর্মী ও দিনমজুর জানান, কাজ বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বাইরের ল্যাব থেকে রক্ত পরীক্ষা ও ওষুধ কেনায় বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং টয়লেট ব্যবহারের অযোগ্যতা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, প্রতি চার বছর পরপর ডেঙ্গুর বড় ধরণের মহামারি ঘটে (যা ২০২৩ সালে দেখা গিয়েছিল)। মশা নিয়ন্ত্রণ ও রোগী ব্যবস্থাপনার নীতি দ্রুত পরিবর্তন না করা হলে চলতি বছরের শেষে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিতে পারে। তিনি কেবল হাসপাতালে চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় বা কমিউনিটি পর্যায়ে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুবিধা এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেন।
| বয়সসীমা | আক্রান্তের সংখ্যা | মৃত্যুর সংখ্যা |
|---|---|---|
| ২১ – ২৫ বছর | ৫,৮৬৮ জন (সর্বোচ্চ আক্রান্ত) | - |
| ২৬ – ৩০ বছর | ৫,৮১৯ জন | ১৬ জন (সর্বোচ্চ মৃত্যু) |
| ৩১ – ৩৫ বছর | ৪,০২৬ জন | - |
| ৩৬ – ৪০ বছর | - | ১৪ জন |
| ৪৬ – ৫০ বছর | - | ১৩ জন |