
আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনে দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবে বাংলাদেশ। ঢাকার পান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির (সিএনবি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ কথা জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিসহ সকল বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসীদের জন্য 'ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড' এবং 'প্রবাসী কার্ড' কর্মসূচির মাধ্যমে একটি সমন্বিত ডাটাবেস তৈরি করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে দুই লাখ কার্ড ইস্যু করা।
| বক্তা / বিশেষজ্ঞ | মূল বক্তব্য ও সুপারিশ |
|---|---|
| শামা ওবায়েদ (প্রতিমন্ত্রী) | জাতিসংঘে দেশের সংস্কার তুলে ধরা, দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ। |
| নাজদিন আহমেদ (সিপিডি) | জলবায়ু আলোচনায় কার্বন ট্রেডিং ও লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড সঠিকভাবে ব্যবহার করা। |
| মেজর জেনারেল (অব.) ফজল এলাহী আকবর | বাস্তবতাকে সামনে রেখে শিক্ষা, বিচার বিভাগীয় সংস্কার ও শান্তিরক্ষী সুনামকে কাজে লাগানো। |
| নূর খান লিটন (মানবাধিকার কর্মী) | গুমের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের কনভেনশন স্বাক্ষর এবং মানবাধিকার আইন সংস্কারকে সাধুবাদ। |
অবৈধ অভিবাসন এবং দালাল চক্র দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি স্বতন্ত্র ‘মাইগ্রেশন উইং’ খোলা হয়েছে। সরকার বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী ও পুরুষ উভয়কেই দক্ষ করে বিদেশে মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক ফোরামে পাট, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ব্লু ইকোনমিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।