
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে যে, তারা হুতি (Houthi) বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নতুন করে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় দেশটিতে আবারো একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরকারি বাহিনী দাবি করেছে, তারা হুতিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে হুদায়দা প্রদেশের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পুনরুদ্ধার করেছে এবং পশ্চিম তাইজের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা (SABA) জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী হুদায়দা, তাইজ ও ইব্ব প্রদেশের সংযোগস্থল হাইস (Hais) জেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। পশ্চিম তাইজের আল-বারহা জংশনের আশপাশের এলাকাও পুনরুদ্ধার করেছে তারা। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা (Sanaa) সহ বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং আল-মাখা (Mocha) বন্দর ও লোহিত সাগরমুখী গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর দখল নিতে চাইছে। এই সংঘাতে ইয়েমেন সরকারকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিচ্ছে সৌদি আরব।
| বিষয় | বর্তমান তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| পুনরুদ্ধারকৃত এলাকা | হাইস জেলা (হুদায়দা) ও আল-বারহা জংশন (তাইজ) |
| হতাহত (তাইজ প্রদেশ) | শনিবারের সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত (বেসামরিকসহ) |
| বাস্তুচ্যুত পরিবার | প্রায় ১,৮০০ পরিবার (গত দুই দিনে ওচা-এর তথ্যমতে) |
| যুদ্ধবিরতি ভাঙন | ২০২২ সালের এপ্রিলের পর আগস্ট থেকে পুনরায় সংঘাত শুরু |
জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (STC) বিলুপ্তির পর সৌদি আরবের সহায়তায় দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইয়েমেন সরকার। এখন তাদের লক্ষ্য হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলো পুনরুদ্ধার করে গোটা ইয়েমেনকে এক ছাতার নিচে আনা। প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম এবং হুতিদের 'ভুল হিসাব-নিকাশ' তাদের সম্পূর্ণ পতনের দিকে নিয়ে যাবে।