
জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্তদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কাজ চলছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে ট্রাইব্যুনাল রায়ে আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, আইনে ও বিধিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার উল্লেখ থাকলেও কোন সংস্থা এটি পরিচালনা করবে এবং কীভাবে অর্থ শহীদ পরিবারকে দেওয়া হবে, তা সাধারণ আইনের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণে বিচারকদের কাছে সুস্পষ্ট নির্দেশনার আর্জি জানানো হয়েছে। প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলে তা পূর্বের রায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে, ফলে শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণে কোনো আইনি বাধা থাকবে না।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২.৩৯ কোটি টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং ৫৫ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। এ ছাড়া গাড়ি, সোনা ও আসবাবপত্র রয়েছে। পূর্বাচলে তাঁর ১০ কাঠার একটি প্লট ছাড়াও পরিবারের ৬ জনের নামে মোট ৬০ কাঠা জমি রয়েছে, যা নিয়ে দুদকের মামলা চলমান। তবে ঐতিহাসিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নামে না হয়ে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট'-এর অধীনে রয়েছে এবং সুধা সদনের মালিক তাঁর দুই সন্তান।
| সম্পদের খাত | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| ঘোষিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ | ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা (২০২৪ হলফনামা অনুযায়ী) |
| ব্যাংক জমানো অর্থ ও আমানত | ব্যাংকে ২.৩৯ কোটি টাকা, ২৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৫৫ লাখ টাকার FDR |
| পূর্বাচল ও অন্যান্য জমি | ১০ কাঠা প্লট (পূর্বাচল), ১৫.৩ বিঘা কৃষিজমি ও টুঙ্গিপাড়ায় ৩ তলা ভবন |
| গাজীপুরের বাগানবাড়ি | তেলিরচালায় ২৯৭ শতক (৯ বিঘা) জমির যৌথ মালিকানা |
| দুদকের তদন্ত তথ্য (২০০৮) | ঘোষিত ৬.৫০ একরের বিপরীতে বাস্তবে ২৮ একর ৪১ শতক স্থাবর সম্পত্তি প্রাপ্তি |