
বরিশালে ২০১৫ সালে 'ক্রসফায়ারে' নিহত ছাত্রদল নেতা টিপুর স্ত্রী সুমা আক্তার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ (ICT-2)-এর কাছে সাবেক আওয়ামী লীগ সাংসদ ও চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এবং তিন পুলিশ কর্মকর্তার ফাঁসি দাবি করেছেন। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাবেক এই সংসদ সদস্য ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
প্রসিকিউশনের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিতে গিয়ে সুমা আক্তার জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বারবার তার স্বামীকে তাদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। হাসানাত আবদুল্লাহ তার স্বামীর সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে টিপু ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় চলে যান। এর দুই দিন পর তিনি জানতে পারেন যে ডিবি পুলিশ ঢাকার তার চাচার বাসা থেকে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি টেলিভিশনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে টিপু ও কবির মোল্লা তথাকথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন।
| অভিযুক্ত ব্যক্তি / পক্ষ | পদবি ও অভিযোগ |
|---|---|
| আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ | সাবেক এমপি ও চিফ হুইপ (নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত) |
| এ কে এম এহসানউল্লাহ | বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) |
| মাহবুবুল ইসলাম ও জসীম উদ্দিন | উজিরপুর থানার সাবেক এএসআই (সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত) |
| নিহত ব্যক্তিরা | টিপু (ছাত্রদল নেতা) ও কবির মোল্লা (জাসাস নেতা) |
আদালতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সুমা আক্তার বলেন, "আমার দুটি মেয়ে রয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে আমি সাবেক এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, তৎকালীন পুলিশ সুপার এহসান উল্লাহ এবং যে দুই পুলিশ সদস্য আমার স্বামীকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, হাসানাত আবদুল্লাহ এবং এসপি এহসানের নির্দেশেই উজিরপুর থানার তৎকালীন দুই এএসআই মাহবুবুল ও জসীম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। সে সময় বরিশালে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের বহু 'ক্রসফায়ারের' ঘটনা ঘটানো হয়েছিল বলেও ট্রাইব্যুনালে উল্লেখ করেন তিনি।