
দারিদ্র্যের কশাঘাতে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা খুব বেশিদূর এগোয়নি। কিন্তু সেই অপূর্ণতাই যেন তাকে আরও বড় কোনো লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করেছিল। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ বছর বয়সী রমণীকান্ত ব্যাপারী দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে মন্দিরের আঙিনায় বিনামূল্যে শিশুদের শিক্ষাদান করে আসছেন। কোনো ধরনের পারিশ্রমিক বা বেতনের তোয়াক্কা না করে গ্রামের তিন প্রজন্মের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলেছেন এই নিভৃতচারী শিক্ষক।
যেখানে চারপাশের জগৎ ছুটছে অর্থের পেছনে, সেখানে রমণীকান্ত এক বিরল দৃষ্টান্ত। অর্থের অভাবে নিজে পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি বলে মনে যে কষ্ট ছিল, তা তিনি ঘুচিয়েছেন অন্যদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে। একটি মন্দিরের খোলা আঙিনাকেই তিনি বানিয়েছেন তার পাঠশালা। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে এই পাঠশালা থেকেই হাতেখড়ি হয়েছে শত শত শিশুর। দাদু, বাবা এবং সন্তান—একই পরিবারের তিন প্রজন্মের অনেকেরই প্রথম শিক্ষক তিনি।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বন্ধের কারণ | তীব্র দারিদ্র্য ও আর্থিক অসচ্ছলতা |
| পাঠদানের স্থান | স্থানীয় মন্দিরের আঙিনা |
| পারিশ্রমিক বা বেতন | সম্পূর্ণ বিনামূল্যে |
| সামাজিক প্রভাব | গ্রামের অন্তত তিন প্রজন্ম তার কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা পেয়েছে |