
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বা এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করতে পারে। তাই খুব দেরি হওয়ার আগেই এআইয়ের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ এবং বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত নিয়ে তিনি এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তুর্ক অভিযোগ করেন, হাতেগোনা কয়েকজন ব্যক্তি ও শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এআইয়ের ওপর সীমাহীন ক্ষমতা ধরে রেখেছেন, যা মোটেও নিরাপদ নয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানির মধ্যে রয়েছে মেটা, অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই ও গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা। ঝুঁকি কমানোর জন্য তিনি সরাসরি এআই কোম্পানিগুলোকে চিঠি দিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, আগামী অক্টোবরে ভলকার তুর্ক জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
| ইস্যু | বর্তমান পরিস্থিতি ও মন্তব্য |
|---|---|
| বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত | বর্তমানে ৬০টির বেশি যুদ্ধ চলছে (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রেকর্ড)। |
| যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা | নতুন পাল্টাপাল্টি হামলা সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে প্রভাবিত করছে। |
| মার্কিন অভিবাসন নীতি | হাইতির মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। |
| জাতিসংঘের দাবি | অপপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে এমন দেশগুলোতে নির্বাসন বন্ধ করা। |
এআই ছাড়াও ভলকার তুর্ক বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এভাবে সংঘাত বৃদ্ধি বিশ্বকে এক বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত সমগ্র উপসাগরীয় অঞ্চলকে হুমকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে ওয়াশিংটনকে হাইতিসহ এমন সব দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো বন্ধের আহ্বান জানান তিনি, যেখানে তাদের জীবন অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।