
দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। বুধবার পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে ১,০০২ জনে পৌঁছেছে। বিগত প্রায় আট বছর যেখানে বার্ষিক সংক্রমণ ৪০০-র নিচে ছিল এবং ২০২৬ সালে দেশ হাম মুক্ত ঘোষণার সনদ পাওয়ার কথা ছিল, সেখানে এই প্রাণঘাতী বিপর্যয়কে ‘নজিরবিহীন ও অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ বলছেন দেশের শীর্ষ জনস্বাস্থ্যবিদেরা।
২০০৬, ২০১০ এবং ২০১৪ সালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শতভাগ বা তারও বেশি সাফল্য অর্জন করে বিশ্বজুড়ে প্রসংশিত হয়েছিল। এমনকি ২০২৫ সালেও মাত্র ১৩২ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল (২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২ জন)। কিন্তু ২০২০-২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়া এবং ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এর ফলেই আজ বিশ্বজুড়ে হাম সংক্রমণে শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক ড. মাহমুদুর রহমান এবং জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী জানান, দেশে হামে এত মৃত্যু ও সংক্রমণ অতীতে কখনও দেখা যায়নি। প্রধানত শিশুরাই এই অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেবল ৬ মাস থেকে ৫ বছর নয়, বরং ৬ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী সমস্ত শিশুকে দ্রুত চিহ্নিত করে বিশেষ টিকাদান অভিযানের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
| বিষয় / সূচক | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট মৃতের সংখ্যা | ১,০০২ জন (উপসর্গে ৯০২, নিশ্চিত হামে ১০০) |
| মোট আক্রান্তের সংখ্যা | ১,৮৭,৪৮৪ জন (উপসর্গ ও নিশ্চিত রোগী মিলিয়ে) |
| সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি | ৩ জনের মৃত্যু, ১,১১৯ জন নতুন আক্রান্ত |
| বিগত বছরের তুলনা | ২০২৫ সালে মাত্র ১৩২ জন এবং ২০২৪ সালে ২৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিল |