
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর গোপনে বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। জেলায় নিয়ে অন্য এলাকার মৌলভি ডেকে গত দুই বছরের মধ্যে এসব বিয়ের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঘটনাটি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখা এবং ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত শ্বশুরবাড়ি না পাঠানোর অঙ্গীকারে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাকিব হোসেন বাবলা গত ৩১ আগস্ট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর তদন্তে নেমে ঘটনার সত্যতা পায় প্রশাসন। জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানান, তদন্তে ১১ জন নয়, মোট ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিবাহের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র দেখাতে পারেননি অভিভাবকেরা। স্থানীয় কাজিকে এড়িয়ে জেলার বাইরে থেকে লোক এনে গোপনে এসব বিয়ের আয়োজন করা হয়। এমনকি কয়েকজন ছাত্রী ইতিমধ্যে স্বামীর সঙ্গে অন্য জেলায় পোশাক কারখানায় কাজে চলে গেছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ জানান, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি ও তদারকির জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিবিএস-এর 'স্মল এরিয়া এস্টিমেশন' প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বাল্যবিবাহের দিক থেকে সাতক্ষীরা জেলা অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে ৬২ শতাংশের বেশি কিশোরীর ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়ে যায়। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ে বা ২১ বছরের কম বয়সী ছেলের বিয়ে আয়োজন করা দণ্ডনীয় অপরাধ, যার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
| বিষয় / ক্ষেত্র | বিবরণ |
|---|---|
| শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম | ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, তালা, সাতক্ষীরা |
| প্রভাবিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা | ১৩ জন (৯ম ও ১০ম শ্রেণি) |
| গৃহীত পদক্ষেপ | অভিভাবকদের মুচলেকা গ্রহণ, শিক্ষা অফিসকে তদারকির দায়িত্ব প্রদান |
| সাতক্ষীরায় বাল্যবিবাহের হার | ৬২% এর বেশি (দেশের মধ্যে ৮ম স্থান) |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা | জান্নাতুল আফরোজ (ইউএনও, তালা) ও নাজমুন নাহার (উপপরিচালক, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর) |