অভিষেকেই বীরত্ব দেখিয়ে ইংল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশ বিলম্বিত করলেন এই পেসার
এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় পড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল পাকিস্তান। তবে দলটির হয়ে টেস্ট অভিষেকেই অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন তরুণ পেসার রাজাউল্লাহ। তার ৬৩ বলে ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে ইংল্যান্ডের সামনে ১৩০ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করিয়েছে পাকিস্তান। ফলে একতরফা হতে যাওয়া ম্যাচটি এখন গড়িয়েছে চতুর্থ দিনে।
খাদের কিনারা থেকে রাজাউল্লাহর প্রতিরোধ
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) তৃতীয় দিনে ৩১৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান যখন ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায়, তখন ক্রিজে আসেন রাজাউল্লাহ। দল তখনও ২ রানে পিছিয়ে। কিন্তু ২১ বছর বয়সী এই তরুণ পেসার কোনো স্নায়ুচাপ না নিয়েই ইংলিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান।
মাত্র ৬৩ বল মোকাবিলায় ৯টি বিশাল ছক্কার সাহায্যে ৮১ রান করেন তিনি। এক ইনিংসে ৯ ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে বেন স্টোকসের গড়া সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডে (২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে) ভাগ বসিয়েছেন। নবম উইকেটে আরেক পেসার মোহাম্মদ আব্বাসকে (৪২) সঙ্গে নিয়ে গড়েন ১২১ রানের দুর্দান্ত এক জুটি।
ব্যাট ভাঙার গল্প
ম্যাচ শেষে স্কাই স্পোর্টসকে রাজাউল্লাহ তার এই ইনিংস নিয়ে বলেন, "আমি কেবল স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে চেয়েছি। বল আমার জোনে আসছিল, আর আমি সেটা কাজে লাগিয়েছি। আমি চেয়েছিলাম অন্য ব্যাটারদের সাপোর্ট দিয়ে ইনিংসটি যতটা সম্ভব লম্বা করতে। এই ইনিংস খেলতে গিয়ে আমার দুটি ব্যাট ভেঙেছে এবং তৃতীয় ব্যাটটিও ক্ষয়ে গেছে! ভাগ্যিস আমি ছয়টি ব্যাট নিয়ে প্রস্তুত হয়েই এসেছিলাম।"
ড্যান লরেন্সের বলে জর্ডান কক্সের হাতে স্টাম্পড হওয়ার আগে গ্যালারির দর্শকদের থেকে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পান এই পেসার। মজার ব্যাপার হলো, এই ইনিংসে চমক দেখানোর আগে বল হাতেও ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ৪টি উইকেট নিয়েছিলেন রাজাউল্লাহ।
টপ অর্ডারের লড়াই
এর আগে, ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। শান মাসুদের ৯৫ এবং চোট কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক বাবর আজমের ৭৬ রানের ইনিংসে ভর করে চলতি সিরিজে প্রথমবারের মতো ২০০ রানের গণ্ডি পার করে তারা। এছাড়া ওপেনার আজান আওয়াইস করেন ৫৯ রান। তবে গুস অ্যাটকিনসন, জশ টাং ও ড্যান লরেন্সদের তোপে এক পর্যায়ে আবারও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। শেষমেশ রাজাউল্লাহর বীরত্বে ৪৪৯ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয় সফরকারীরা।
সিরিজের প্রেক্ষাপট
চলতি সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান। প্রথম টেস্টে এক ইনিংস ও ১০৩ রান এবং দ্বিতীয়টিতে ১৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে তারা। দ্বিতীয় টেস্টের পরপরই প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং সহকারী কোচ উমর গুলকে বরখাস্ত করে পিসিবি। এজবাস্টন টেস্টে দলে চারটি পরিবর্তন আনা হয়।
এখন দেখার বিষয়, চতুর্থ দিনে ১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জো রুটের দল সহজেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয়, নাকি বোলিংয়ে চমক দেখিয়ে পাকিস্তান শেষ মুহূর্তে কোনো নাটকীয়তার জন্ম দেয়।