
তীব্র গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হলে ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের ভেতরের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। এতে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও রান্না করা খাবারে জীবাণুর বংশবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে কিছু সতর্কতা মেনে চললে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলেও ফ্রিজের খাবার তুলনামূলকভাবে নিরাপদ রাখা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে করণীয়গুলো হলো—
১. পচনশীল খাবার ফ্রিজারে রাখুন
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে সাধারণ রেফ্রিজারেটরে থাকা মাছ, মাংস, দুধ বা সংরক্ষিত রান্না করা খাবার সম্ভব হলে ফ্রিজারে সরিয়ে রাখা যেতে পারে। ফ্রিজার খাবারকে দীর্ঘ সময় কম তাপমাত্রায় রাখতে সাহায্য করে।
২. অপ্রয়োজনে ফ্রিজের দরজা খুলবেন না
লোডশেডিংয়ের সময় ফ্রিজ ও ফ্রিজারের দরজা যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে। বারবার দরজা খুললে ভেতরের ঠান্ডা দ্রুত বের হয়ে যায়। সাধারণত বন্ধ অবস্থায় একটি ফ্রিজ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত ঠান্ডা রাখতে পারে। পূর্ণ ফ্রিজার তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ঠান্ডা ধরে রাখে।
৩. আইস প্যাক বা বরফ ব্যবহার করুন
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে পচনশীল খাবারের চারপাশে আইস প্যাক বা বরফ রাখা যেতে পারে। এতে খাবারের তাপমাত্রা কম রাখতে সহায়তা করবে। খাবার নিরাপদ রাখতে সম্ভব হলে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
৪. প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার কিনবেন না
যেসব এলাকায় নিয়মিত দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হয়, সেখানে একসঙ্গে বেশি পরিমাণে পচনশীল খাবার না কেনাই ভালো। প্রয়োজন অনুযায়ী অল্প পরিমাণে মাছ, মাংস, দুধ ও অন্যান্য তাজা খাবার কিনে দ্রুত রান্না ও খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
৫. কুলার ব্যাগ বা আইস বক্স ব্যবহার করুন
ফ্রিজে পর্যাপ্ত ঠান্ডা ধরে রাখা সম্ভব না হলে পচনশীল খাবার কুলার ব্যাগ বা আইস বক্সে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও রান্না করা খাবার বরফের মধ্যে রাখলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা রাখা সম্ভব। প্রয়োজনে পরিষ্কার পাত্রে বরফ ব্যবহার করেও সাময়িকভাবে খাবার সংরক্ষণ করা যায়।
লোডশেডিং দীর্ঘ হলে খাবারের গন্ধ, রং, গঠন বা স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন দেখা দিলে তা খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া জরুরি। সন্দেহজনক খাবার নিরাপদ ধরে নিয়ে খাওয়ার পরিবর্তে ফেলে দেওয়াই ঝুঁকি কমানোর উপায়।