
ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রাভিযান ও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা দখলের ঘটনায় বদলে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক মানচিত্র। কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরের মোখা বন্দর এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির ঠিক ভেতরে অবস্থিত পেরিম (ময়উন) দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে চলে যাওয়ায় লোহিত সাগরে মার্কিন সামরিক অবস্থান ও বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আগেই মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সৌদি আরব তাদের জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পাঠাতে লোহিত সাগরের লজিস্টিক রুটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিরা অবস্থান মজবুত করায় সেই বিকল্প পথও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ড্রোন হামলার পর দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে ব্যবহৃত সৌদির ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন’ বন্ধ হয়ে পড়ায় ইউরোপ ও বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ পরিচালনা করেছিলেন। আট শতাধিক স্থানে বিমান হামলা চালিয়েও হুতিদের ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি ও রণকৌশল নস্যাৎ করা সম্ভব হয়নি। উল্টো মার্কিন রণতরি ও যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্য লোহিত সাগরে চলাচল এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির চাপে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন লোহিত সাগরে সামরিক ভারসাম্য রক্ষায় ইসরায়েলের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বড় যুদ্ধের রণাঙ্গন খুলে দিতে পারে।
| কৌশলগত উপাদান | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব |
|---|---|
| পেরিম (ময়উন) দ্বীপ ও মোখা বন্দর | হুতি বাহিনীর দখলে; বাব আল-মানদেব প্রণালির ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ। |
| সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন | ইরাকি গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ (দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল)। |
| মার্কিন অভিযান (Operation Rough Rider) | ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ; হুতি আক্রমণ অব্যাহত। |
| ইরানি সামরিক সহযোগিতা | আইআরজিসি (IRGC) সদস্য, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সরঞ্জাম সরবরাহ। |