
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলন্ত বাসে যাত্রী সেজে জিম্মি ও মারাত্মক নির্যাতনের শিকার এক বীমা কর্মকর্তাকে উদ্ধার করেছে র্যাব-১৪। একই সাথে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বাসটির গতিরোধ করে সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের মূল হোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে ‘বিহারি বাদল’কে (৪০) দেশীয় ধারালো অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের নারায়ণগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ। শুক্রবার সন্ধ্যায় অফিসের কাজ শেষে ভালুকা থেকে নারায়ণগঞ্জ ফেরার জন্য তিনি বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর দেখতে পান, সাধারণ ২-৩ জন যাত্রীকে মারধর করে তাদের মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয় চক্রটি। এরপর বাসের জানালা ও পর্দা বন্ধ করে জাহাঙ্গীরকে জিম্মি করে বুকে ছুরি ঠেকিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চায়। জীবন বাঁচাতে তিনি ছোট ভাই ও সহকর্মীদের ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এনে দেন। কিন্তু এরপরেও ডাকাতরা তাঁকে না ছেড়ে ঢাকার আবদুল্লাহপুর ঘুরে আবার ময়মনসিংহের দিকে বাস চালাতে থাকে।
বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর সময় জাহাঙ্গীরের ব্যাকুল আকুতি শুনে তাঁর ছোট ভাই শাহারুল আলম সঙ্গে সঙ্গে র্যাব-১৪-কে বিষয়টি জানান। বিকাশ নম্বর ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাসটির অবস্থান শনাক্ত করে রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরের দিঘারকান্দা এলাকায় র্যাব দুটি তল্লাশিচৌকি বসায়। ডাকাত দল প্রথম তল্লাশিচৌকি ভেঙে দ্রুত পালিয়ে যেতে চাইলেও দ্বিতীয় চৌকিতে আটকে পড়ে। এ সময় বাকিরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও ১০টির বেশি ডাকাতি মামলার কুখ্যাত আসামি ও চক্রের মূল হোতা জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদলকে আটক করে র্যাব।
| বিষয় / সূচক | বিবরণ |
|---|---|
| উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী | জাহাঙ্গীর আলম (ইনচার্জ, সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স, নারায়ণগঞ্জ ইউনিট) |
| আটক ডাকাত প্রধান | জাবেদ ইকবাল ওরফে বিহারি বাদল (৪০) [১০টির বেশি ডাকাতি মামলার আসামি] |
| আদায়কৃত মুক্তিপণ ও ক্ষতি | বিকাশে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং এটিএম কার্ড ছিনতাই |
| অভিযান পরিচালনাকারী দল | র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ শাখা) |
| আটক স্থান ও উদ্ধারকৃত জিনিস | দিঘারকান্দা (ময়মনসিংহ বাইপাস); বাসের ভেতর থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র জব্দ |