
কয়লা সংকট কাটিয়ে পুরোদমে উৎপাদনে ফেরার কয়েকদিনের মাথায় ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ৮০০ মেগাওয়াট ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়েছে এবং দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) ও পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কয়লা পৌঁছাতে না পারায় গোড্ডা কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যায়। দীর্ঘ এক মাসের প্রচেষ্টা শেষে গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরে। কিন্তু পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন শুরু হতে না হতেই ৮০০ মেগাওয়াটের ১টি ইউনিটে নতুন করে মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। বর্তমানে আদানি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭০০ মেগাওয়াটের আশেপাশে ওঠানামা করছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ১,২০০ থেকে ১,৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত থাকে।
২০১৭ সালে বিপিডিবির সাথে আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিএইচএ) হয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাজার ও দেশীয় গ্যাস–কয়লা সংকটের কারণে বাংলাদেশের নিজস্ব কেন্দ্রগুলো চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে আদানির প্রধান সংযোগে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিপুল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বন্ধ থাকা ইউনিটটি কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে আদানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।
| সূচক / বিষয় | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
|---|---|
| বিদ্যুৎকেন্দ্রের নাম ও অবস্থান | আদানি পাওয়ার গোড্ডা লিমিটেড (ঝাড়খণ্ড, ভারত) |
| মোট উৎপাদন ক্ষমতা | ১,৬০০ মেগাওয়াট (৮০০ মেগাওয়াট করে ২টি ইউনিট) |
| বর্তমান সচল ইউনিট | ১টি (১টি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে বন্ধ) |
| বর্তমান বিদ্যুৎ সরবরাহ | ৬৯১ - ৭০০ মেগাওয়াট (স্বাভাবিক: ১,২০০ - ১,৪০০ মেগাওয়াট) |
| চুক্তি সম্পাদনকারী সংস্থা | বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও আদানি পাওয়ার (২০১৭) |