
মেক্সিকোর পুয়েবলা রাজ্যের সিয়েরা নোর্তে অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি অবৈধ গোপন ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং ফার্ম বা ডিজিটাল মুদ্রা তৈরির খামারের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। পাশ্ববর্তী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ চুরি করে মেক্সিকোর প্রভাবশালী ড্রাগ কার্টেলগুলো অবৈধ অর্থের উৎস লুকাতে ও নতুন ক্রিপ্টো কয়েন তৈরি করতে এই প্রযুক্তিভিত্তিক আস্তানাটি পরিচালনা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লোকালয় থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওই জরাজীর্ণ ভবনটি থেকে ১ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঠান্ডা রাখার পাখা ও কম্পিউটারের বিকট শব্দ শোনা যেত। তবে শুধু শব্দ নয়, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা আকস্মিকভাবে কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে বিষয়টি। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সমন্বিত প্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরি করতে মেক্সিকোর কোনো শক্তিশালী ও বিত্তশালী ড্রাগ কার্টেলের প্রত্যক্ষ অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।
ল্যাটিন আমেরিকার ড্রাগ কার্টেলগুলো কেবল মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজিতে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন ডিজিটাল লেনদেন ও বিটকয়েন মাইনিংয়ের মতো জটিল অর্থনৈতিক অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজের ইনডেক্স অনুযায়ী, বর্তমানে ১টি বিটকয়েন বিশ্ববাজারে প্রায় ৭৮ হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ চুরি করে এই ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি করায় কার্টেলগুলোর জন্য এটি অর্থপাচারের এক লাভজনক নয়া ঢাল হয়ে উঠেছে। মেক্সিকোর পাশাপাশি থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রেও সাম্প্রতিক সময়ে অনুরূপ বেশ কয়েকটি অবৈধ মাইনিং ডেরার সন্ধান পাওয়া গেছে।
| বিষয় / সূচক | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | তলাওলা, পুয়েবলা রাজ্য, মেক্সিকো (সিয়েরা নোর্তে পর্বতমালা) |
| জব্দকৃত প্রযুক্তি | ৩০০টি GPU, ৮০টি মিডিয়াম-ভোল্টেজ টার্মিনাল, ৮টি স্যাটেলাইট অ্যান্টেনাল |
| বিদ্যুতের উৎস | নিকটস্থ ড্যাম থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেওয়া জলবিদ্যুৎ |
| বিটকয়েন মাইনিং খরচ ও বাজারদর | ১টি বিটকয়েন তৈরিতে বৈশ্বিক খরচ: ~$৪৫,০০০ | বর্তমান বাজারমূল্য: ~$৭৮,০০০ |
| আন্তর্জাতিক রিপোর্ট | চেইনঅ্যালিসিস (২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে অবৈধ ক্রিপ্টো গ্রহণ: $১৫৪ বিলিয়ন) |