
হত্যা করার পর পরিচয় মুছে ফেলা, আলামত নষ্ট করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতেই মরদেহ টুকরো টুকরো করে গুমের নৃশংস কৌশল বেছে নিচ্ছে অপরাধীরা। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে মফস্বল শহর—কখনো প্লাস্টিকের ড্রাম, বস্তা, ব্যাগ কিংবা পলিথিনের প্যাকেটে ভরে ড্রেন, খাল কিংবা মহাসড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হচ্ছে খণ্ডিত অঙ্গপ্রতঙ্গ। গত এক বছরে দেশে অন্তত এক ডজন এমন নৃশংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশি তথ্য ও প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, একের পর এক এমন ঘটনা দেশজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। শাহবাগে ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে হত্যার পর ২৬ টুকরা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়া এবং ডেমরায় আলী হোসেনের মরদেহ ১০ টুকরা করে খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার বাইরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস কর্মী রাকিব রায়হানের মরদেহ ১৫ টুকরা করে ব্যাগে ভরা হয়। এছাড়া কুমিল্লার দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনের দেহ ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে এবং ফরিদপুরের সালথায় জামু ফকিরের হাত-পা বিচ্ছিন্ন মরদেহ মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, অপরাধীরা ভাবে মরদেহ খণ্ডিত করে ছিটিয়ে দিলে পরিচয় কখনো শনাক্ত সম্ভব হবে না। কিন্তু আধুনিক তদন্ত ব্যবস্থায় কেবল একটি আঙুলের ছাপ, সিসিটিভির কয়েক সেকেন্ডের ফুটেজ কিংবা টিস্যুর ডিএনএ টেস্ট দিয়েই নিহতের পরিচয় ও হত্যাকারীকে দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে। আদাবর ও মধুখালীর সর্বশেষ ঘটনায় পিবিআইসহ অন্যান্য একাধিক ইউনিট প্রযুক্তির সাহায্যে জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।
| ঘটনার স্থান | ভুক্তভোগী / পরিচয় | গুমের মাধ্যম ও টুকরার সংখ্যা |
|---|---|---|
| আদাবর (ঢাকা) | অজ্ঞাত নারী | কালো ব্যাগে ভরা খণ্ডিত অংশ (হাক্কার মোড় খাল) |
| মধুখালী (ফরিদপুর) | অজ্ঞাত পুরুষ (বয়স ৪৫-৫০) | ৩টি কার্টনে ৬ টুকরা মরদেহ |
| শাহবাগ (ঢাকা) | আশরাফুল হক (ব্যবসায়ী) | ২টি ড্রামে ২৬ টুকরা মরদেহ |
| ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) | রাকিব রায়হান (কাস্টমস কর্মী) | ৩টি ব্যাগ ও পোটলায় ১৫ টুকরা মরদেহ |
| দেবীদ্বার (কুমিল্লা) | ফরিদা ইয়াসমিন | ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে উদ্ধার |