
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার মধ্যেই ইরাক থেকে ছোড়া ড্রোন হামলার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে শীর্ষে থাকা দেশটির জন্য ১২শ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি অত্যন্ত কৌশলগত, কারণ এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহন করা সম্ভব হতো।
ইরাক নিশ্চিত করেছে যে, হামলাটি তাদের ইরানের সীমান্তবর্তী অঞ্চল মাইসান প্রদেশ থেকে পরিচালিত হয়েছিল। এ ঘটনার পরপরই ওই অঞ্চলের অপারেশনস কমান্ডারকে পদচ্যুত করা হয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা আপাতত পাইপলাইনটির কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। হামলায় কয়েকজন আহত ও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হলেও বিস্তারিত মূল্যায়নের কাজ চলছে। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনার পর সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাল্টা হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হামলা ঠেকানোর প্রচেষ্টায় সমর্থন প্রকাশ করেছে।
এদিকে ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইন বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই পাইপলাইনটি বিশ্বব্যাপী মোট তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ পরিবহন করে। পাইপলাইন বন্ধের খবরে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
এনার্জি অ্যাসপেক্টসের বিশ্লেষক রিচার্ড ব্রোঞ্জ জানান, সুয়েজ খাল বা বিকল্প রুটে তেল পরিবহনে সময় এবং খরচ দুটোই বাড়ছে। তেলের অতিরিক্ত মজুদও শেষ হয়ে আসছে, ফলে সংকট অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ডিজেলের রেকর্ড দাম বৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্য এক ফ্রন্টে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বড় ধরনের সাফল্য দাবি করেছে। তারা লোহিত সাগরের কৌশলগত মোকা শহর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। যদিও ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই লড়াই ও অস্থিরতার কারণে গত জুলাই থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার একটি বড় অংশ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন গত এক সপ্তাহেই।
গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) সৌদি তেলের পাইপলাইনে এই ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে।