যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই একটি ‘যোদ্ধা জাতি’ হয়ে থাকে, তবে বেসামরিক মানুষকে নাজেহাল না করে সরাসরি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সেনাবাহিনীকে এড়িয়ে সাধারণ মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ আটকে দেওয়ায় ওয়াশিংটনের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যত চাপই দিক না কেন, তেহরান কখনোই নতিস্বীকার বা আত্মসমর্পণ করবে না।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, মার্কিন বাহিনী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, খাদ্য সরবরাহ এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুদ্ধ চালাচ্ছে। মানুষ হলে কখনো সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা ও খাবার থেকে বঞ্চিত করা যায় না। সেনাবাহিনীকে মোকাবিলা করার সাহস না দেখিয়ে সাধারণ জনগণকে টার্গেট করা যুক্তরাষ্ট্রের ভীরুতার শামিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
টানা ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হলেও উত্তেজনা কমেনি। মার্কিন নৌবাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর অবরোধ বহাল রেখেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহে ধস নামিয়েছে। অন্যদিকে, এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি পরিবহন রুট 'হরমুজ প্রণালি' নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
| বিষয় / সূচক | তথ্য ও বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|
| ইরানি প্রেসিডেন্টের মূল বার্তা | বেসামরিক মানুষ লক্ষ্য না বানিয়ে সেনা মুখোমুখি হওয়ার চ্যালেঞ্জ; আত্মসমর্পণ না করার ঘোষণা |
| যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পদক্ষেপ | যুদ্ধের পর ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ (খাদ্য ও ওষুধ প্রবেশে বাধা) |
| ইরানের পাল্টা জবাব | কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ করা |
| আগের সংঘাতের স্থায়িত্ব | টানা ৪০ দিনের সরাসরি যুদ্ধের পর অকার্যকর যুদ্ধবিরতি |
| বার্তার মাধ্যম | প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অফিসিয়াল এক্স (X) অ্যাকাউন্ট |