
প্রস্তাবিত ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে সরকারের এখতিয়ার আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গুজব, অপতথ্য, বুলিং, মানহানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্টের ক্ষেত্রে শাস্তির পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের হাতে কনটেন্ট ব্লক বা অপসারণের ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এই পরিবর্তনগুলো বাক্স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংশোধনী খসড়ায় ‘গুজব’ বলতে অসমর্থিত বা যাচাই না করা তথ্যকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা সামাজিক অস্থিতিশীলতা বা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। ২৫ ধারায় মানহানি ও যৌন হয়রানির পাশাপাশি বুলিং-এর সংজ্ঞায় ডিজিটাল বা সামাজিক মাধ্যমে শারীরিক-মানসিক ক্ষতি ও বিচ্ছিন্নতা তৈরিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে ভুয়া ছবি, ভিডিও বা অডিও তৈরি বা সম্পাদনা করাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের বিরুদ্ধে এই অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে ১০ বছরের জেল ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
খসড়ার সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি আনা হয়েছে ৮(২) ধারায়। আগে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে উদ্যোগ নিতে পারলেও, নতুন আইনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার অনুমোদিত সংস্থাসমূহকে এই ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্র, ধর্মীয় অনুভূতি, জনশৃঙ্খলা ও মানহানির অজুহাতে বিটিআরসি-কে দিয়ে সরাসরি ওয়েবসাইট বা সামাজিক মাধ্যমের লিংক বন্ধ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। টিআইবির মতে, সাইবার সুরক্ষা এবং সাইবার অপরাধকে একাকার করে ফেলে ডিজিটাল স্পেসে নাগরিকদের স্বাধীন মতপ্রকাশকে নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
| আইনের ধারা | প্রস্তাবিত অপরাধের বিষয় | প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ শাস্তি ও ক্ষমতা |
|---|---|---|
| ধারা ২৬(ক) [নতুন] | সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার | ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) |
| ধারা ২৫ | মানহানি, যৌন হয়রানি, সাইবার বুলিং ও AI বিকৃতি | ৫ বছর জেল / ২০ লাখ জরিমানা (নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে ১০ বছর জেল/৪০ লাখ টাকা) |
| ধারা ৮(২) | অনলাইন কনটেন্ট অপসারণ ও সাইট ব্লককরণ | তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং অনুমোদিত সংস্থাকে বিটিআরসির মাধ্যমে সরাসরি ব্লকিংয়ের ক্ষমতা |
| ধারা ২৯(৩) | কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ | আদালত কর্তৃক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত বা সম্পূর্ণ বাতিল |