কৃষি
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে কাঁঠাল ১০ টাকায় বিক্রি হতো, গাজীপুরে তা এখন ১,০০০ টাকা
মৌসুম শেষে সরবরাহ কমে যাওয়ায় আকাশচুম্বী কাঁঠালের দাম
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে কাঁঠালের মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে, যার ফলে দাম এখন আকাশচুম্বী। ভরা মৌসুমে গ্রামের বাজারগুলোতে যে কাঁঠাল মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাপাসিয়া, জৈনা বাজার এবং বরমী বাজার ঘুরে দেখা যায়, মে থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত যে কাঁঠালগুলো ১০ টাকায় পাওয়া যেত, মৌসুম শেষ হওয়ার পর তা বেশ দামি হয়ে উঠেছে। গাছে থাকা অল্প কিছু কাঁঠাল এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে, বড় আকারের একেকটি কাঁঠালের দাম হাঁকা হচ্ছে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কাপাসিয়া উপজেলার বানারহাওলা গ্রামের বাসিন্দা এবং উপজেলা ভূমি সেবা সহায়তা কেন্দ্রের ইনচার্জ আলমগীর হোসেন (৪৩) গ্রামের একটি বাজার থেকে ৫০০ টাকায় একটি কাঁঠাল কেনেন। তিনি বলেন, "মাত্র কয়েকদিন আগেও আমি নিজের বাগানের কাঁঠাল প্রতিটি ১০ টাকায় বিক্রি করেছি। কিন্তু আজ আমাকে একটি কাঁঠাল ৫০০ টাকা দিয়ে কিনতে হলো।"
তিনি আরও জানান, "যাঁর কাছ থেকে কিনেছি, তিনি বলেছেন তাঁকে বেশি দামেই এসব কাঁঠাল কিনতে হয়েছে। মৌসুমের শেষের দিকের কাঁঠাল খেতেও বেশি সুস্বাদু হয়, তাই মানুষ বেশি দাম দিয়েও এটি কিনতে আগ্রহী।"
এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) গাজীপুর শাখা কাঁঠাল সংরক্ষণের জন্য একটি প্রসেসিং সেন্টার (প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র) স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এর উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, কাঁঠাল হিমাগারে রাখা যায় না, তবে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এটি সংরক্ষণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, "আমরা শ্রীপুর বা কাপাসিয়ার কোনো একটি স্থানে এই প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের কথা ভাবছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন উদ্যোক্তা এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।"
‘কাঁঠালের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত গাজীপুরের কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাজারে এখনও কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে। বুধবার বরমী বাজারের সাপ্তাহিক হাটে মাইন উদ্দিন পাঁচটি কাঁঠাল নিয়ে আসেন। তিনি জানান, একেকটি কাঁঠাল ৪০০ থেকে ১,০০০ টাকায় বিক্রি করছেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে তিনি বিভিন্ন দামে এগুলো সংগ্রহ করেছেন।
কাঁঠালের মৌসুম এখন শেষ, উপজেলার বাজারগুলোতে আগে কাঁঠালের যে স্তূপ দেখা যেত, তা আর নেই। শ্রীপুরের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের বাজার জৈনা বাজারেও এখন কাঁঠাল নেই বললেই চলে। ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান, মৌসুমের সময় কম দামে কাঁঠাল পাওয়া গেলেও এখন ব্যবসায়ীদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তবে শেষের দিকের কাঁঠাল বেশি সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতারাও বেশি দাম দিতে কার্পণ্য করছেন না।
ফল ব্যবসায়ী আবুল হোসেন দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে জাতের পার্থক্যকে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে পাকে না। কিছু জাত মৌসুম শুরুর আগেই ফল দেয়, আবার কিছু জাত মৌসুমের শেষ দিকে পাকে। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় স্বাভাবিকভাবেই এসব কাঁঠালের দাম বেশি থাকে।"
কৃষক আনিসুজ্জামান সোহেল জানান, জাত অনুযায়ী কাঁঠাল গাছ লাগালে কৃষকরা অনেক বেশি লাভবান হতে পারেন, কারণ আগাম এবং নাবি (মৌসুমের শেষের) উভয় কাঁঠালেরই ভালো চাহিদা রয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ইতোমধ্যে কাঁঠালের কিছু আগাম জাত উদ্ভাবন করেছে। কয়েকটি নার্সারিতে এসব জাতের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে কিছু সারা বছর ফলনশীল জাতও রয়েছে। তিনি বলেন, "জাত অনুযায়ী চারা রোপণ করলে কৃষকরা ভালো দাম পেতে পারেন।"
চলতি বছর শ্রীপুরে কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরে প্রায় ৮,৫০২ হেক্টর জমিতে কাঁঠালের আবাদ হয়।