
উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি তৈরি করা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়’ স্মরণ করেছে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেলের ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা, বিতর্ক ও নেটিজেনদের তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে।
পাকিস্তানের সরকারি নথি অনুসারে, জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং দেশটির স্বাধীনতার মাত্র এক বছর পর ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। স্বাধীনতার পর একই বছরের মার্চে ঢাকা সফরে এসে তিনি দম্ভভরে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন, যা বাঙালি জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয় ও ভাষার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছিল। ঢাকার ছাত্রসমাজ সেই মুহূর্তে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, যা পরবর্তীতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপান্তরিত হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের অফিশিয়াল পেজে পোস্টটি আসার পর অধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক সচেতন মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের মতে, দ্বিজাতিতত্ত্বের কাঠামোর ওপর ভর করে তৎকালীন পূর্ব বাংলাকে দুই দশক ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে শোষণ করা হয়েছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে জিন্নাহকে মহিমান্বিত করাকে ভাষা আন্দোলন ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের প্রতি সরাসরি চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
| বিষয় / সূচক | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| বিতর্কিত বিষয় | মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা’ জ্ঞাপন |
| আয়োজক প্ল্যাটফর্ম | ইনকিলাব মঞ্চ (প্রতিষ্ঠাতা: শহীদ শরীফ ওসমান হাদি) |
| পোস্টের তারিখ | ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার রাত) |
| ঐতিহাসিক প্রাসঙ্গিকতা | ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর ‘উর্দুই একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের সূচনা |
| সমালোচকদের মূল বক্তব্য | ভাষা আন্দোলন, দ্বিজাতিতত্ত্বের শোষণের ইতিহাস ও ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী |