
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ-পদায়ন ও টেন্ডার বাণিজ্য, উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল পরিমাণ কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সমন্বিত এই আর্থিক অনিয়মের আনুমানিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
দুদক জানায়, প্রাপ্ত অভিযোগের মধ্যে চার দেশে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি সবচেয়ে বড় অংকের। এই অর্থ দিয়ে দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ, পর্তুগালে জমি ক্রয় এবং সুইস ব্যাংকে আমানত জমা রাখার তথ্য এসেছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগে ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ওয়াসার এমডি ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটিতে কোটিতে টাকার দরকষাকষির অভিযোগ ওঠে। আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন এবং পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার গঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই এসব লেনদেন পরিচালিত হতো বলে দুদকের নথিতে বলা হয়েছে।
| অভিযোগের খাত | দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ | মূল বিষয়বস্তু |
|---|---|---|
| বিদেশি পাচার | ১১,০০০ কোটি টাকা | দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে ভিলা ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ |
| প্রশাসক ও ডিসি পদায়ন | ১৩২ - ৪২০ কোটি টাকা | ডিএনসিসি প্রশাসক (৬০ কোটি) ও ৩৬ ডিসি নিয়োগে (৭২-৩৬০ কোটি) ঘুষ লেনদেন |
| পদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ | ১২৭ কোটি টাকা | ঢাকা ওয়াসা এমডি (১০ কোটি), এলজিইডি চিফ (৫২ কোটি) ও গাজীপুর সিইও (৬৫ কোটি) |
| প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় | ১,২০০+ কোটি টাকা | শেখ রাসেল স্টেডিয়াম ও ওয়াসা সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পে অস্বাভাবিক বাজেট বৃদ্ধি |
| যুব ও ক্রীড়া দুর্নীতি | ৪.২৬ কোটি টাকা | উপজেলা ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব ও পদায়ন বাণিজ্য |