বরেণ্য লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, প্রিয় শিল্পীকে নিয়ে স্মৃতিকাতর ফেরদৌসী রহমান
সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
দেশের প্রখ্যাত লালন সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তাঁকে হারানোর এক বছর পেরিয়ে গেলেও স্বজন, ভক্ত ও সহকর্মীদের হৃদয়ে তিনি অমলিন। বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন আরেক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ফেরদৌসী রহমান।
‘হৃদয়ের গভীর থেকে গাইতেন ফরিদা’
ফেরদৌসী রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ফরিদা পারভীনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। তাঁর মতে, ফরিদা পারভীন লালনের গান কেবল মুখ দিয়ে গাইতেন না, তিনি তা গাইতেন হৃদয়ের গভীর থেকে। তাঁর যাপিত জীবন ও সংগীত সাধনা—দুটোই ছিল অত্যন্ত সহজ-সরল এবং পরিশীলিত।
বেঁচে আছেন ‘অচিন পাখি’র মাঝে
গত বছরের আজকের এই দিনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ফরিদা পারভীন। পরে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় তাঁকে। শিল্পীর প্রয়াণের এক বছর পার হলেও তাঁর নিজ হাতে গড়া ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’র মধ্য দিয়ে বেঁচে আছে তাঁর সুর ও সাধনা।
ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী লোকগান ও বিভিন্ন ধারার সংগীতের তালিম নিচ্ছেন। ফরিদা পারভীনের স্বামী ও প্রখ্যাত বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম বর্তমানে একাডেমিটি পরিচালনা করছেন। তিনি জানান, বাংলা লোকগানকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার যে স্বপ্ন ফরিদা পারভীন দেখতেন, তা বাস্তবায়নেই নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা।
অসামান্য স্বীকৃতি ও স্মরণ
নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করা ফরিদা পারভীন শৈশব থেকেই ছিলেন সংগীতানুরাগী। ১৯৭৩ সালে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছে লালন সংগীতের দীক্ষা নেওয়ার পর তিনি নিজেকে এই ধারায় পুরোপুরি উৎসর্গ করেন। সংগীতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি।
কিংবদন্তি এই শিল্পীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বাংলাদেশ বেতার, চ্যানেল আইসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় ‘অচিন পাখি সংগীত একাডেমি’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ স্মরণ সভা।