
ম হাশূণ্যে মানুষের সর্বাধিক দূরে পৌঁছানো বস্তু 'ভয়েজার ১' (Voyager 1)। ১৯৭৭ সালে উৎক্ষেপণের পর প্রায় ৪৮ বছর ধরে মহাকাশের অসীম শূন্যতা পাড়ি দিয়ে এটি ইতোমধ্যেই সৌরজগতের সীমানা অতিক্রম করে আন্তঃনাক্ষত্রিক স্থানে (Interstellar Space) প্রবেশ করেছে। পৃথিবী থেকে ২২ বিলিয়ন কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থান করলেও সত্তরের দশকের অসাধারণ গাণিতিক ও প্রকৌশল দক্ষতার জোরে এটি আজও পৃথিবীতে নিখুঁতভাবে সিগন্যাল পাঠিয়ে যাচ্ছে।
গভীর মহাশূন্যে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলার সময় ছোট ছোট ধূলিকণা বা উল্কার সাথে সামান্য ঘর্ষণ বা ধাক্কা লাগলেও স্পেসক্রাফটের দিক পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে। এতে অ্যান্টেনাও পৃথিবীর দিক থেকে ঘুরে গিয়ে যোগাযোগের পথ চিরতরে বিচ্ছিন্ন হতে পারত। কিন্তু ১৯৭০-এর দশকের বিজ্ঞানীরা এমন এক গাণিতিক সূক্ষ্মতায় এটি নকশা করেছিলেন যে, ১৯৮০ সালের পর থেকে আর কখনো এর মূল অ্যান্টেনা পৃথিবীর দিক থেকে ঘুরে যায়নি, যা প্রকৌশল বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম বড় এক বিস্ময়।
গতিপথ সামঞ্জস্য রাখতে ভয়েজার ১-এ ছোট ছোট 'ট্র্যাজেক্টরি করেকশন ম্যানুভার' (টিসিএম) থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়। ১৯৮০ শনি গ্রহ অতিক্রমের পর থেকে এর এই বিশেষ থ্রাস্টারগুলো আর ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়েনি। তবে ২০১৭ সালে নাসার প্রকৌশলীরা যখন প্রায় ৩৭ বছর পর থ্রাস্টারগুলো সচল করার পরীক্ষা করেন, তখন দেখা যায় থ্রাস্টারগুলো বিন্দুমাত্র ত্রুটি ছাড়াই কাজ করছে! এই দীর্ঘ স্থায়িত্ব ও কার্যক্ষমতা মানব সভ্যতার প্রযুক্তির পরাকাষ্ঠা তুলে ধরে।
| সূচক / বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| উৎক্ষেপণের তারিখ | ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৭ |
| বর্তমান অবস্থান ও দূরত্ব | সৌরজগতের বাইরে (Interstellar Space), ২২+ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে |
| অ্যান্টেনা সংযোগ স্থায়িত্ব | ১৯৮০ সাল থেকে অবিকল পৃথিবীর দিকে মুখ করে স্থিতিশীল |
| থ্রাস্টার প্রযুক্তির নাম | ট্র্যাজেক্টরি করেকশন ম্যানুভার (TCM) |
| টিসিএম থ্রাস্টার পরীক্ষা | ৩৭ বছর বন্ধ থাকার পর ২০১৭ সালে পরীক্ষায় শতভাগ সফল সচলতা |