
হরমুজ প্রণালির কাছে পানামার পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাংকার ‘এল গাইয়া’ নৌমাইনে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ট্যাংকারটি ইরানের অস্ত্রের হামলার শিকার হয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মাসে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ট্যাংকারটি অচল হয়ে পড়ে। পরে ওমান উপকূলের কাছে অবস্থানকালে চলতি সপ্তাহান্তে জাহাজটিতে আবারও একটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়। বর্তমানে একটি আঞ্চলিক অংশীদার দেশ ট্যাংকারটি টেনে নিয়ে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ‘এল গাইয়া’ হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে ইরানের ভাষায় ‘অবৈধ’ বা ‘অনিরাপদ’ পথে চলাচলের সময় একটি নৌমাইনে আঘাত পেয়ে আগুন ধরে যায়। ট্যাংকারটি আগে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিল বলেও দাবি করেছে তেহরান।
এর আগে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ নৌমাইনে আঘাত পাওয়ার দাবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অতীতেও এ ধরনের কয়েকটি দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ১৩ সেপ্টেম্বর ওমান উপকূলের কাছে ‘এল গাইয়া’তে আগুন লাগার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটিকে ‘প্রজেক্টাইল হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফলে ট্যাংকারটির ক্ষয়ক্ষতির কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
জাহাজ চলাচলের তথ্য নিয়েও ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। এআইএস ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ট্যাংকারটি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে এবং রাস লাফান ও সোহারে বন্দরে যাতায়াত করেছে। অন্যদিকে গত আগস্টে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জাহাজটি অচল হয়ে পড়েছিল—এমন স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
ইরান একই সঙ্গে দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি তাদের ‘স্মার্ট নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট রুট ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ জাহাজ চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে ‘এল গাইয়া’ নৌমাইনে আঘাত পেয়েছে, নাকি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যই সামনে রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য ছাড়া কোনো একটি দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।