অর্থনীতি ও অপরাধ
সিআইডির চার্জশিটে সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ ৬৪ জনের নাম
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। এ নিয়ে টানা ৯৮ বারের মতো পেছালো সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জসিতা ইসলামের আদালতে মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আগামী ১৯ অক্টোবর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বিদেশে তথ্যের অপেক্ষায় সিআইডি
প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন জানান, চুরির তদন্ত এখনো চলমান থাকায় প্রতিবেদনে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা বিদেশ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অপেক্ষায় আছি। সেই তথ্য ও আইনি নথি পাওয়ার পরই আদালতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।"
প্রেক্ষাপট ও চুরির চিত্র
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ (১০১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার চুরি হয়। চুরি হওয়া অর্থের মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। বাকি ২ কোটি ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কায়, যা পরবর্তীতে ফেরত পাওয়া যায়।
চার্জশিটে আতিউর রহমানসহ ৬৪ জন
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিআইডি জানায়, উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র সমর্থিত হ্যাকার দল ‘লাজারাস গ্রুপ’-এর সদস্য পার্ক জিন হিয়ক এই হ্যাকিংয়ের মূল মাস্টারমাইন্ড। এছাড়া ফিলিপাইনের ৩৫-৪০ জন এবং চীন, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তা এই চুরিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন।
মামলার খসড়া চার্জশিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা ও মেজবাউল হক এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খানসহ দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের উপ-পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ১৬ মার্চ সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তখন থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।