
ইরানের পারমাণবিক সংকট নিরসন হলে দেশটির পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহ করতে তৈরি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের রেইবার্ন হাউস অফিস বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট এ কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সংকট কাটলে তেহরান চাইলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকেও প্রয়োজনীয় পরমাণু জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে।
তবে এই প্রস্তাবটি মূলত ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম সংক্রান্ত অচলাবস্থা নিরসনের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মতে, এই সংকট সমাধান করা সম্ভব হলে ইরান আবারো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মূলধারায় ফিরতে পারবে, যা তাদের জনগণের জন্য শান্তি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।
দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে, পারমাণবিক শক্তি অর্জনের আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। যদিও তেহরান শুরু থেকেই এ ধরনের মার্কিন অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ইরানের সামরিক ও বেসামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবলই বেসামরিক ও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করেনি।
নাতান্জ ঘিরে সামরিক উত্তেজনার পারদ
কূটনৈতিক আলোচনার এমন আশ্বাসের মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। তেহরানের প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত নাতান্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের কাছে সম্প্রতি নির্মাণকাজের স্পষ্ট গতিবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা পর্যালোচনার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে 'চূড়ান্ত হামলা'র পরিকল্পনা করছে বলে বিভিন্ন সুত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ আরও তীব্র করার স্পষ্ট হুমকি দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দেশটিতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বোমা হামলা চালানো হতে পারে, যা তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতা ধ্বংস করে দেবে।
বিশেষ করে নাতান্জ পারমাণবিক কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন' সাইটে সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্ত হওয়ার পর সেখানেও মার্কিন হামলার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, অতি শীঘ্রই ওই নির্দিষ্ট পাহাড়ি সাইটটিতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হতে পারে।
সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।