
ইগলের দৃষ্টিশক্তি প্রকৃতিজগতের অন্যতম এক বিস্ময়। মানুষের যেখানে স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ২০/২০ ধরা হয়, সেখানে ইগলের দৃষ্টিশক্তি প্রায় ২০/৫ বলে ধারণা করা হয়। অর্থাৎ, মানুষ ২০ ফুট দূর থেকে যা দেখতে পায়, একটি ইগল তা প্রায় ৮০০ ফুট দূর থেকেও একই রকম স্পষ্ট দেখতে সক্ষম। শিকারি এই পাখির চোখের অনন্য গঠনের কারণেই তারা আকাশের অনেক ওপর থেকেও মাটিতে থাকা ছোট শিকার সহজেই শনাক্ত করতে পারে।
ইগলের চোখের ভেতরে ‘পেকটেন ওকিউলাই’ (Pecten Oculi) নামক একটি বিশেষ বায়োলজিক্যাল গঠন থাকে। এটি মূলত একটি ভাঁজযুক্ত এবং প্রচুর রক্তনালী সমৃদ্ধ অঙ্গ। মানুষের চোখে রেটিনার ওপরে যেসব রক্তনালী থাকে, তা অনেক সময় দৃষ্টিসীমায় সামান্য বাধার সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু ইগলের ক্ষেত্রে এই পেকটেন ওকিউলাই রেটিনায় পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে, যার ফলে রেটিনার ওপর রক্তনালী থেকে দৃষ্টিক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছায়া বা বাধা সৃষ্টির সম্ভাবনা একবারে কমে যায়।
পেকটেন ওকিউলাইয়ের পাশাপাশি ইগলের রয়েছে অত্যন্ত ঘন রেটিনা এবং অতিরিক্ত গভীর ‘ফোভিয়া’ (Fovea)। চোখে আলো প্রবেশ করার পর এই গভীর ফোভিয়া আলো ও প্রতিচ্ছবিকে টেলিফোটো লেন্সের মতো বিবর্ধিত বা জুম করে রেটিনায় উপস্থাপন করতে পারে। ঘন রেটিনা এবং গভীর ফোভিয়ার যৌথ কার্যকারিতার কারণেই ইগল আকাশ থেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তার শিকার চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়।
| বৈশিষ্ট্য | মানুষ | ইগল |
|---|---|---|
| দৃষ্টিশক্তির মান (Acuity) | ২০/২০ (মানক) | ২০/৫ (অত্যন্ত তীক্ষ্ণ) |
| বিশেষ অঙ্গ (Pecten Oculi) | অনুপস্থিত | উপস্থিত (রেটিনার পুষ্টি জোগায়) |
| রেটিনার গঠন | সাধারণ ঘনত্ব | অত্যন্ত ঘন ও সমৃদ্ধ |
| ফোভিয়ার ধরণ (Fovea) | সাধারণ সমতল | অত্যন্ত গভীর ও নিখুঁত জুম ক্ষমতা সম্পন্ন |