অনলাইন গ্রোসারি প্ল্যাটফর্ম চালডালের কর্মীরা ঢাকার কোম্পানির প্রধান কার্যালয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাঁদের অভিযোগ, তিন থেকে ছয় মাস ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে এবং সেটি পরিশোধের দাবি জানিয়েই তাঁরা অবস্থান করছেন।
প্রায় ৭৫ জন কর্মী — যাঁদের বেশিরভাগই নারী — গত শনিবার যশোর অফিস থেকে ঢাকায় আসেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে আলোচনার জন্য বনানী কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল তাঁদের। তবে বেতন কখন পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস এখনো পাননি বলে জানিয়েছেন কর্মীরা।
"দাবি খুবই সহজ। আমাদের বেতন দিন, আমরা চলে যাব। আর কিছু লাগবে না।" — সালমা আক্তার নিপু, প্রিমিয়াম কেয়ার অ্যাসোসিয়েট, চালডাল
প্রতিবাদে জড়িত কর্মীদের তথ্যমতে, মঙ্গলবার রাতেও ৩০ জনেরও বেশি কর্মী বনানীর চালডাল হোয়াইট হাউস কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়া বা অন্য কোথাও থাকার ব্যবস্থা করা কিছু কর্মী এর মধ্যে চলে গেছেন।
দুই বছর ধরে চালডালে কর্মরত সালমা আক্তার নিপু জানান, নিয়মিত বেতন না পেয়ে তিনি গত মে মাসে পদত্যাগ করেন। ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধের পর আর কোনো বেতন পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকলেও কিছু কর্মীর ক্ষেত্রে তা ছয় মাস পর্যন্ত পৌঁছেছে।
অপর এক কর্মী, টেকনিক্যাল অপারেশন্স এক্সিকিউটিভ শাকিনুর রহমান শাকিব জানিয়েছেন, তাঁর ছয় মাসের বেতন বকেয়া। যশোরের কর্মীদের তিন থেকে ছয় মাসের বেতন বাকি এবং সেখানকার ৩০০ থেকে ৪০০ কর্মী পূর্ণ বেতন পাননি বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকায় আসা অনেক কর্মী এখন যশোরে ফিরতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বলে জানান শাকিব। তাঁদের হাতে টাকা নেই এবং কেউ কেউ ভাড়া বাড়ি ছাড়ার নির্দেশও পেয়েছেন। তাঁর ভাষায়, "যাঁরা এসেছেন, তাঁদের আসার টাকা ছিল, কিন্তু ফেরার টাকা নেই।"
শাকিবের তথ্যমতে, শ্রম অধিদপ্তরের বনানী-গুলশান জোনের একজন পরিদর্শক কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করেছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসেও বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডালের যশোর কার্যালয়ে অনুরূপ বিক্ষোভ হয়েছিল। তখন কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ধাপে ধাপে বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে এবং ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণের বাইরের অর্থনৈতিক কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে সব পক্ষের সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়েছিল।
কর্মীরা জানিয়েছেন, বকেয়া বেতন আদায়ে সহায়তা পেতে তাঁরা পুলিশ ও জরুরি সেবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে চালডালের সিইও ওয়াসিম আলিম জানান, কোম্পানিটি অভূতপূর্ব তারল্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "বকেয়া বেতনের কারণে কর্মীদের যে কষ্ট হচ্ছে, তা আমরা সম্পূর্ণভাবে স্বীকার করছি। আমরা কর্মী প্রতিনিধি, কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমাধানের পথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে বৈধ দাবি নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, সেটি স্পষ্ট।"