
ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ‘ইউপিআই’ (UPI)-এর মাশুল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। দুই হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট কিছু অনলাইন বা বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাশুল বসানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারতের জাতীয় পেমেন্ট সংস্থা (NPCI)। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার দাবি, সরকার গোপনে ইউপিআই-এর ওপর মাশুল আরোপের পথ তৈরি করছে এবং মার্কিন ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্থাগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়মে কী পরিবর্তন আসছে?
জাতীয় পেমেন্ট সংস্থার নতুন কাঠামো অনুযায়ী:
ব্যক্তিগত লেনদেন: একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে টাকা পাঠালে (P2P) কোনো মাশুল দিতে হবে না। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে।
ছোট ব্যবসায়ী ও খুচরা লেনদেন: দুই হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোনো বাণিজ্যিক লেনদেন এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আগের মতোই শূন্য মাশুল নীতি বহাল থাকবে।
বড় অঙ্কের বাণিজ্যিক লেনদেন: দুই হাজার টাকার বেশি নির্দিষ্ট বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ০.৪ শতাংশ ‘মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট’ (MDR) বা ব্যবসায়ী মাশুল প্রযোজ্য হতে পারে। তবে একটি লেনদেনে এই মাশুলের পরিমাণ কোনোভাবেই ৩০০ টাকার বেশি হবে না।
বিশেষ খাত: জ্বালানি, রেলওয়ে, টেলিযোগাযোগ এবং বিমা খাতের জন্য আলাদা নির্দিষ্ট মাশুল কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধীদের অভিযোগ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে সরাসরি কোনো টাকা নেওয়া না হলেও শেষ পর্যন্ত এই খরচের বোঝা কার ওপর গিয়ে পড়বে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাণিজ্যিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে সেই টাকা সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকেই উসুল করবেন। একই সাথে তিনি অভিযোগ করেন, এতদিন মার্কিন পেমেন্ট কোম্পানিগুলো ভারতের ‘শূন্য মাশুল’ নীতির প্রতিবাদ করে আসছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাদের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
কী বলছে সরকার?
নয়াদিল্লি অবশ্য বিরোধীদের এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউপিআই ব্যবস্থার পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা জোরদার এবং এর ভবিষ্যৎ বিস্তারের খরচ সামলাতেই নতুন এই মাশুল ব্যবস্থা আনা হয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ব্যবহারকারী এই সিদ্ধান্তের কারণে কোনো প্রভাবিত হবেন না। লেনদেনের পরিমাণের দিক থেকে বড় অংশ এর আওতায় আসলেও, সার্বিক লেনদেনের সংখ্যার বিবেচনায় মাশুলের আওতায় পড়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অত্যন্ত কম।