
ভারতের রাজস্থানের জয়পুরের একটি সুপরিচিত মন্দিরে বিশেষ মেহেদি সংগ্রহ করতে হাজার হাজার ভক্তের ঢল নেমেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় মন্দির কর্তৃপক্ষকে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর 'সিনজারা' উৎসব উপলক্ষে জয়পুরের ঐতিহাসিক মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে এই ব্যতিক্রমী ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, যাদের বিয়েতে বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বা উপযুক্ত পাত্র-পাত্রী খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে, তারা এই মন্দিরে মেহেদি নিবেদন করেন। পরবর্তীতে মন্দির থেকে বিতরণ করা সেই মেহেদি হাতে লাগালে আগামী এক বছরের মধ্যে মনের মতো জীবনসঙ্গী মেলে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক দীর্ঘদিনের বিশ্বাস রয়েছে।
এই বিশেষ মেহেদি পাওয়ার আশায় শুধু স্থানীয় অধিবাসীরাই নন, বরং দিল্লি ও চণ্ডীগড়সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগের দিন রাত থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন অসংখ্য মানুষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্য ও স্থানীয় বিবরণ থেকে জানা যায়, উৎসবের দিন মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি মেহেদি বিতরণ করা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মন্দির এলাকায় হাজার হাজার নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন এবং প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। অতিরিক্ত লোকসমাগমের কারণে মন্দির সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এক পর্যায়ে নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই ভক্তদের মাঝে মেহেদি বিতরণ শুরু করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
ভিড়ের মাঝে চরম বিশৃঙ্খলা ও ধাক্কাধাক্কির খবরও পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে মহারাষ্ট্র থেকে আসা এক নারী ভক্ত ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে অনেকেই ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুভূতির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিশাল এই ভিড় ও অবিবাহিতদের দীর্ঘ লাইন নিয়ে নেটিজেনদের একাংশকে নানা রসাত্মক মন্তব্য করতেও দেখা গেছে।