সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আরও জনপ্রিয়, বাস্তবসম্মত ও আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী নতুন সুবিধা যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই নতুন সংস্কার উদ্যোগের মূল আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে—পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন এবং পেনশনারদের সামাজিক সুরক্ষার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
পেনশন বিধিমালার নতুন প্রস্তাবে মূল পেনশনভোগীর জীবনাবসানের পর তাঁর নমিনি স্বামী বা স্ত্রীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট বয়সসীমা বা নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক শর্ত থাকার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও, বর্তমান উদ্যোগে পেনশনারের মৃত্যুর পর তাঁর স্বামী বা স্ত্রী বেঁচে থাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশনের অর্থ পাবেন। এতে করে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর অনুপস্থিতিতেও জীবনযাত্রার মান ব্যাহত হবে না।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের চিকিৎসা খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ নাগরিক যেন পেনশন পেয়েও চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে নিঃস্ব হয়ে না পড়েন, সেজন্য সর্বজনীন পেনশনধারীদের বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যবিমা কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সরকারি ও নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা, অপারেশন ও ওষুধ ক্রয়ে ছাড় সুবিধা দেওয়া হতে পারে।
| সুবিধার বিষয় | প্রাথমিক/পূর্বের রূপরেখা | নতুন প্রস্তাবিত সুবিধা |
|---|---|---|
| পেনশনভোগীর মৃত্যুতে প্রাপ্তি | নমিনি নির্দিষ্ট বয়স (৭৫ বছর) পর্যন্ত পেতেন | স্বামী বা স্ত্রীর জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা |
| স্বাস্থ্য সুরক্ষা | স্বাস্থ্যবিমার আলাদা ব্যবস্থা ছিল না | পেনশনারদের সার্বিক স্বাস্থ্যবিমার অন্তর্ভুক্তকরণ |
| উদ্দেশ্য | বার্ধক্যকালীন সঞ্চয় তৈরি | আকর্ষণ বাড়িয়ে সর্বস্তরের নাগরিককে স্কিমে আনা |