
এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবলে নিজেদের পরাজয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হারের পর, গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণের তোপে পড়ে পিটার বাটলারের দল। জোড়া হারের ফলে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পথ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
অভিজ্ঞদের ফিরিয়েও মেলেনি স্বস্তি
প্রথম ম্যাচে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বাদ দিয়ে দল সাজানোয় চরম সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে একাদশে ছয়টি বড় পরিবর্তন আনেন তিনি।
ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও জুনিয়র, শিউলি আজিম এবং অভিজ্ঞ গোলরক্ষক রূপনা চাকমাকে ফিরিয়ে এনে শক্তিশালী দল নামায় বাংলাদেশ।
ম্যাচের শুরুর ১৫ মিনিট প্রতিরক্ষাব্যুহ ঠিক রেখে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারলেও ১৬ মিনিটে কর্নার থেকে কিম মিনজির গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৩৩ মিনিটে রূপনা চাকমা একটি নিশ্চিত গোল বাঁচালেও বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে জং দাবিন হেডে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন।
দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ন্ত্রণের বাইরে ম্যাচ
বিরতির পর কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করেন মনিকা ও ঋতুপর্ণারা। ৫৬ ও ৫৮ মিনিটে আনিকা সিদ্দিকীর মাধ্যমে দুটি সুযোগ তৈরি হলেও দক্ষিণ কোরিয়ান গোলরক্ষককে পরাস্ত করা সম্ভব হয়নি।
এরপরই ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া:
৬৫ মিনিট: চোই ইউরির গোল (৩-০)
৭৭ মিনিট: জি সো-ইউনের গোল (৪-০)
৭৯ মিনিট: হিয়ন সুলগির গোল (৫-০)
৯৩ মিনিট (ইঞ্জুরি টাইম): কো ইউজিনের গোলে জয় নিশ্চিত (৬-০)
পুরো ম্যাচে বাংলাদেশের বল দখল ছিল মাত্র ৩০ শতাংশ। প্রতিপক্ষের গোলমুখে বাংলাদেশ মাত্র একটি শট নিতে পেরেছিল, যেখানে রূপনা চাকমা অন্তত ছয়টি গোল বাঁচিয়ে ব্যবধান আরও বড় হওয়া থেকে দলকে রক্ষা করেন।
সামনে এখন মিয়ানমার পরীক্ষা
বিশ্বকাপে একাধিকবার অংশ নেওয়া এবং এশিয়ান গেমসে তিনটি ব্রোঞ্জজয়ী দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট হলেও টুর্নামেন্ট থেকে এখনও পুরোপুরি ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের মুখোমুখি হবে পিটার বাটলারের দল। সেই ম্যাচে জয় পেলে 'সেরা তৃতীয় দল' হিসেবে শেষ আটে ওঠার গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে থাকবে বাংলাদেশের।