
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায় বলে বড় ধরনের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন চূড়ান্ত বা শেষের পর্যায়ে রয়েছে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বুধবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার গ্যাস্টোনিয়ায় রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলির এক নির্বাচনী প্রচারসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, "আশা করছি আমরা যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছি। তারা (ইরান) এখন একটি চুক্তি করতে আগ্রহী। দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।"
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করতে চায়—ট্রাম্প ইতিপূর্বেও একাধিকবার এমন দাবি করেছেন। তবে গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে। যুক্তরাষ্ট্রে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। সংঘাতের কারণে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, অতিরিক্ত শুল্ক ও জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অর্থনৈতিক সংকট রিপাবলিকান প্রার্থীদের বড় ধরনের রাজনৈতিক চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ইরান নীতির তীব্র সমর্থন জানান রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের চেয়ে নিজ রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনার সাধারণ মানুষের স্বার্থকেই তিনি সবসময় অগ্রাধিকার দেবেন।
বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে ডিজেলের লাগামহীন দাম কমানোর আশ্বাস দিয়ে হোয়াটলি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও ডিজেলের মূল্য কমানোর লক্ষ্যে তারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।
তবে সংঘাত শেষ না করে কীভাবে দ্রুত জ্বালানির দাম কমানো সম্ভব—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াটলি বলেন, "ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা মোতায়েন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই লক্ষ্যেই সব পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত সপ্তাহেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার 'অবিলম্বে পরেই' ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাতের অবসান ঘটবে।