
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ সাগরে তলিয়ে যাবে—আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের এমন দীর্ঘদিনের আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে প্রাকৃতিকভাবে জেগে উঠেছে এক নতুন বাংলাদেশ। হিমালয় থেকে নেমে আসা কোটি কোটি টন পলি বঙ্গোপসাগরের মেঘনা মোহনায় জমে সৃষ্টি করেছে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটারের এক সুবিশাল নতুন ভূখণ্ড। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম উপকূলের সন্দ্বীপ, স্বর্ণদ্বীপ ও ভাসানচর অঞ্চলজুড়ে গড়ে ওঠা এই নতুন ভূমি দেশের অর্থনীতি, বাস্তুচ্যুতদের আবাসন এবং উপকূলীয় সুরক্ষায় খুলে দিচ্ছে অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দুয়ার।
কয়েক দশক ধরে একদল আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সংস্থা দাবি করে আসছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। তবে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদী অববাহিকা দিয়ে হিমালয় থেকে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ পলি সেই পূর্বাভাসকে বদলে দিয়েছে। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় পলির স্তূপ জমে অবিরাম ভূমি বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মালদ্বীপের মোট আয়তনের চেয়েও বড় একটি অবিচ্ছিন্ন ভূখণ্ডে পরিণত হওয়ার পথে।
জেগে ওঠা ১ লাখ ৬৪ হাজার একর খাস জমি দেশের চরম নদীভাঙন ও জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ভূমিহীন মানুষের পুনর্বাসনের প্রধান স্থায়ী ঠিকানা হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ও কৃষিবিদদের মতে, চরের অত্যন্ত উর্বর পলিমাটিতে লবণাক্ততা-সহনশীল ধান চাষ, তরমুজ, বাদাম ও বাণিজ্যিক ডেইরি খামার স্থাপন করে বছরে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা (৫-১০ বিলিয়ন ডলার) জাতীয় অর্থনীতিতে যুক্ত করা সম্ভব। এটি বাংলাদেশেকে কেবল খাদ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীল করবে না, বরং ব্লু-ইকোনমিতে নতুন গতি আনবে।
নতুন চরে মাটির স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ধ্বংসাত্মক প্রভাব থেকে মূল ভূখণ্ডকে বাঁচাতে কেওড়া ও বাইন গাছের ম্যানগ্রোভ বন গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি অতীতে দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ নিয়ে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক ও ভৌগোলিক জটিলতার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দেশের নতুন এই ভূখণ্ড ও সংলগ্ন সামুদ্রিক সীমানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে সর্বাধুনিক রাডার ও ড্রোন নজরদারি জোরদার করা আবশ্যক।
| খাত / ক্ষেত্র | বর্তমান তথ্য ও বিস্তার | কৌশলগত গুরুত্ব ও সম্ভাবনা |
|---|---|---|
| সন্দ্বীপ ও সংলগ্ন অঞ্চল | ৩৬ বছরে আয়তন ৩২৮ থেকে বেড়ে ৭২৬ বর্গকিমি | প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ভূমির ধারাবাহিক সংযোজন |
| খাস জমি ও আবাসন | ১ লাখ ৬৪ হাজার একর নতুন জমি | জলবায়ু শরণার্থী ও ভূমিহীনদের স্থায়ী পুনর্বাসন |
| অর্থনৈতিক খাত | বছরে ৬০,০০০ - ১,২০,০০০ কোটি টাকা | কৃষি, ডেইরি বিপ্লব ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন |
| উপকূলীয় প্রতিরক্ষা | ম্যানগ্রোভ বন ও আধুনিক রাডার/ড্রোন | ঝড়-জলোচ্ছ্বাস প্রতিরোধ ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা |