মিশনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পড়াশোনা করতে গিয়ে খ্রিস্টান সহপাঠীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনকে কাছ থেকে জানার সুযোগ পেয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী তাসনিয়া নিশাত মিম। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে বৈরিতা ছাড়াই চলতে এবং অসাম্প্রদায়িকভাবে বেড়ে উঠতে শিখিয়েছে।
বাংলাদেশে গত ২৫ বছরে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের সম্পর্ক নিয়ে বিডি খ্রিস্টান পোস্টের নেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন নিশাত মিম।
মিমের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ২০০৩ সালে নাটোরের সেন্ট জোসেফস হাই স্কুলে। খ্রিস্টান মিশনারি এই প্রতিষ্ঠানে তিনি ২০১৪ সালে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঢাকার হলি ক্রস কলেজে পড়াশোনা করে এইচএসসি পাস করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১২ বছর মিশনারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার কারণে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক খ্রিস্টান বন্ধু তৈরি হয়েছে।
"ছোটবেলা থেকেই আমি শিখেছি কীভাবে অসাম্প্রদায়িক হয়ে অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে বৈরিতা ছাড়াই চলতে হয়।"
খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে শুরুতে তাঁর খুব বেশি জানাশোনা ছিল না। খ্রিস্টান বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে মিশতেই যীশুকে স্মরণ, মারিয়া এবং পাপস্বীকারের মতো ধর্মীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি হয় বলে জানান তিনি। একসঙ্গে ক্লাস, টিফিন, খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা ও পড়াশোনার মধ্য দিয়ে তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
স্কুলে সিস্টার ও ফাদাররা শিক্ষক ছিলেন উল্লেখ করে মিম বলেন, তাঁদের জীবন ও দায়িত্ব নিয়েও তাঁর কৌতূহল ছিল। সরাসরি প্রশ্ন করতে দ্বিধা হওয়ায় খ্রিস্টান সহপাঠীদের কাছ থেকেই এসব বিষয়ে জেনেছেন তিনি।
মিম জানান, চার ধর্মের মানুষের সঙ্গেই তাঁর মেলামেশা, পড়াশোনা ও কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিখেছেন কীভাবে অসাম্প্রদায়িক হয়ে অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে বৈরিতা ছাড়াই চলতে হয়।
তাঁর মতে, অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে কাছ থেকে মিশলে অনেক পার্থক্যই আর আলাদা মনে হয় না। খ্রিস্টান পরিবারে চার বছরের অনার্স জীবনে টিউশনি করার অভিজ্ঞতার কথাও জানান তিনি। তাদের সঙ্গে খাবার খাওয়া এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতায় তিনি কোনো পার্থক্য খুঁজে পাননি।
মিম বলেন, বাঙালি হিসেবে খ্রিস্টান ও মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কথা বলা, আবেগ, মায়া, মমতা ও সৌহার্দ্যের জায়গায় অনেক মিল রয়েছে। ধর্মীয় আচার ও বিশ্বাসে পার্থক্য থাকলেও সবাই স্রষ্টাকে স্মরণ করে বলে তিনি মনে করেন।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রত্যাশা করেন মিম। তাঁর মতে, বর্তমানে যে বৈরিতা দেখা যায়, তা দূর করতে তরুণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ তরুণরাই ভবিষ্যতে দেশ ও পরিবারকে নেতৃত্ব দেবে এবং নতুন প্রজন্ম তাদের কাছ থেকেই শিখবে।
মিশনারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ উল্লেখ করে মিম বলেন, সেখানে শুধু পড়াশোনা নয়, শিষ্টাচার, ম্যানারিজম ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগও পেয়েছেন। বিতর্ক, উপস্থাপনা, গান, নাচ ও আবৃত্তির মতো কার্যক্রম তাঁর পেশাগত জীবনেও কাজে লাগছে বলে জানান তিনি।