
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ আরও জোরালো করে হোয়াইট হাউসে বিখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন (CNN), পলিটিকো (Politico) এবং এমএস নাও (MS NOW—সাবেক MSNBC)-কে অবিলম্বে প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাঁর প্রশাসনকে নিয়ে ক্রমাগত মনগড়া কল্পকাহিনি ও 'মিথ্যা' তথ্য প্রকাশ করে আসছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিবেদনের উদাহরণ তিনি প্রকাশ করেননি।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো একটি কারণ নেই; বরং গত কয়েক বছরে জমে থাকা একতরফা খবর পরিবেশন এর মূল কারণ। তিনি স্পষ্ট জানান, নিউ ইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্টও 'ফেক নিউজ' পরিবেশন করছে এবং অন্য অনেক মাধ্যমকেও একই রকমের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই সিএনএন-এর সাংবাদিকরা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে তাঁদের সফর অব্যাহত রাখেন।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সিএনএন। সংস্থাটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, "যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সরকারি কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীন সাংবাদিকতার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই আদেশ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একটি অবৈধ আঘাত।" পলিটিকোও জানিয়েছে, তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করবে। তবে এমএস নাও এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রেস কর্পসের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে 'মেক্সিকো উপসাগর' (Gulf of Mexico)-কে 'আমেরিকা উপসাগর' (Gulf of America) হিসেবে লিখতে অস্বীকৃতি দেওয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর সাংবাদিকদের ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশ বন্ধ করেছিল হোয়াইট হাউস, যা নিয়ে মামলা এখনো চলমান। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেস পুলে ট্রাম্পের এই হস্তক্ষেপ আদালতের দৃষ্টিতে বৈষম্যমূলক হওয়ায় এটি টিকবে না।
| সংস্থা / মিডিয়া | ট্রাম্পের পদক্ষেপ / বক্তব্য | আইনি ও সাংবিধানিক যুক্তি |
|---|---|---|
| সিএনএন (CNN) | প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে 'মিথ্যা তথ্য' ছড়ানোর দায়ে নিষিদ্ধ। | সংবিধানের ১ম সংশোধনী লঙ্ঘন ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকারে অবৈধ হামলা। |
| পলিটিকো (Politico) | হোয়াইট হাউসের সংবাদ পরিবেশনায় নিষেধাজ্ঞা জারি। | ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্টের অধীনে কড়া আইনি প্রতিরক্ষার মাধ্যমে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। |
| WHCA (করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন) | সহকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর ঘটনার বিরুদ্ধে অবস্থান। | আমেরিকান জনগণের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার অধিকার রক্ষায় সংহতি প্রকাশ। |
| নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট | ট্রাম্পের এই আদেশকে সরাসরি অসাংবিধানিক অ্যাখ্যা প্রদান। | হোয়াইট হাউস প্রেস পুল একটি ‘পাবলিক ফোরাম’, মতামত পার্থক্যের কারণে বের করে দেওয়া অবৈধ। |
তথ্যসূত্রঃ বিবিসি নিউজ