
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ রবিবার থেকে। ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সশরীরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ ভর্তি কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
এর আগে শনিবার রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিশ্চিত হতে পারছেন তারা শেষ পর্যন্ত কোন কলেজে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সশরীরে ভর্তি হতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিচের কাগজপত্রগুলো সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে:
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার মূল মার্কশিট (অ্যাকাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট) ও সনদের কপি
এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড)
সম্প্রতি তোলা ২ থেকে ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের প্রাপ্তিস্বীকার বা কপির কপি
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সচল মোবাইল নম্বর
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী, এলাকা এবং প্রতিষ্ঠানের ধরন (এমপিও ও নন-এমপিও) ভেদে ভর্তির ফি নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ১,৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: ঢাকা মহানগরে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনের জন্য সর্বোচ্চ ফি ৫,০০০ টাকা। অন্যান্য বিভাগীয় শহরে সর্বোচ্চ ৩,০০০ টাকা, জেলা পর্যায়ে ২,০০০ টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল এলাকায় সর্বোচ্চ ১,৫০০ টাকা ফি নেওয়া যাবে।
নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান: ঢাকা মহানগরে বাংলা ভার্সনের জন্য সর্বোচ্চ ৭,৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের জন্য ৮,৫০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদরে বাংলা ভার্সনে ৩,০০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৪,০০০ টাকা এবং মফস্বল এলাকায় বাংলা ভার্সনে ২,৫০০ টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ৩,০০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে মেধার ভিত্তিতে মোট আসনের ৯৩ শতাংশ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন প্রথম ধাপে মনোনীত হন। তবে তাদের মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৪ জন শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে প্রাথমিক নিশ্চায়ন না করায় তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। ফলে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, যারা প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করতে পারেনি, এই ধাপে নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের পুনরায় নতুন করে আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে।