
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবটের দেওয়া সম্পূর্ণ ‘ভুল’ গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত একটি চীনা কার্গো জাহাজে সশস্ত্র মার্কিন সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। পারমাণবিক অস্ত্রের উপাদান পরিবহনের ভুয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই অভিযান একেবারে শেষ মুহূর্তে গভীর পুনঃযাচাইয়ের কারণে ঠেকানো সম্ভব হয়। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে সামান্য ভুলের জন্য ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে মারাত্মক সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যক্ষ ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।
ঘটনাটি চলতি ২০২৬ সালের বসন্তকালের, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক উত্তেজনার পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। হাওয়াইভিত্তিক মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড প্যাসিফিক থেকে প্রাপ্ত উন্মুক্ত এবং গোপন সংকেতভিত্তিক তথ্যের সঙ্গে চ্যাটবট নিজের অ্যালগরিদম মিলিয়ে একটি প্রতিবেদন দাঁড় করায়। এক মার্কিন সামরিক বিশ্লেষক ওই চ্যাটবটের তথ্য যাচাই ছাড়াই অফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট তৈরি করে উচ্চপর্যায়ে পাঠান। আকাশে যুদ্ধবিমান ও সমুদ্রে বিশেষ বাহিনী প্রস্তুত করার পর শেষ মুহূর্তে মূল আলামত পর্যালোচনা করতে গিয়ে ধরা পড়ে যে পুরো বিষয়টিই এআই চ্যাটবটের মনগড়া ‘হলুসিনেশন’ বা ভুল শনাক্তকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গত জানুয়ারিতে পেন্টাগনে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’ প্রকাশ করেন। পেন্টাগনের লক্ষ্য ছিল দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন এবং হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারে চীন বা প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকা। তবে সংবেদনশীল ও স্পর্শকাতর সামরিক গোয়েন্দা কাজে তড়িঘড়ি এআই অ্যাপ্লিকেশনের ব্যবহার ও বাণিজ্যিক প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কীভাবে বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, এই ঘটনা তার একটি বিপজ্জনক উদাহরণ হিসেবে সামনে এল।
এআই-এর দেওয়া ভুয়া তথ্যে চীনা জাহাজে মার্কিন অভিযানের পরিকল্পনা জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির একদল সিনেটর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর জে ক্লেটনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে পেন্টাগনের এআই নীতির স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সিনেটররা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কার্যকর তদারকি ও সুরক্ষার চেয়ে সরকার এআই প্রযুক্তির দ্রুত প্রয়োগকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে।
| বিষয় | ঘটনা ও তথ্য | সামরিক ও রাজনৈতিক প্রভাব |
|---|---|---|
| ঘটনার সময় ও স্থান | ২০২৬ সালের বসন্তকাল; মধ্যপ্রাচ্যের আন্তর্জাতিক জলসীমা। | যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি। |
| ভুলের ধরন | চ্যাটবটের মাধ্যমে পণ্যের তালিকা ভুলভাবে ‘পারমাণবিক কাঁচামাল’ হিসেবে চিহ্নিত। | ভুল গোয়েন্দা তথ্যে হামলার সিদ্ধান্ত। |
| পেন্টাগন নীতি | পিট হেগসেথের ‘এআই অ্যাকসেলারেশন স্ট্র্যাটেজি’। | আমলাতান্ত্রিক ধীরগতি কাটাতে নীতি বাস্তবায়ন। |
| আইনপ্রণেতাদের পদক্ষেপ | সিনেট ডেমোক্র্যাটদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধানকে তদন্তের অনুরোধ। | সামরিক ক্ষেত্রে এআই তদারকির কড়াকড়ি দাবি। |