
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক তিনটি শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। কাতার সরকারের মাধ্যমে প্রেরিত এই শর্তাবলির জবাবে এখন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নবনিযুক্ত সেক্রেটারি মোহসেন রেজায়ি কূটনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির এই গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিশ্চিত করেছেন।
গত মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করা ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ি জানান, "মধ্যস্থতাকারী দোহার সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আমাদের শর্ত হলো—সব ফ্রন্টে সাময়িক বা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা, আমাদের জব্দকৃত আর্থিক সম্পত্তি ছাড় দেওয়া এবং নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।" রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ট্রাম্পের হুমকিতে কোনো কাজ হবে না এবং এসব শর্ত মেনে নেওয়া ওয়াশিংটনের স্বার্থেই জরুরি। তারা সর্বাত্মক যুদ্ধের পাশাপাশি সংঘাত নিরসনে একটি নতুন কৌশলগত কূটনীতির পথও খোলা রেখেছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে রেজায়ি বলেন, তাদের সামরিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তেহরানের প্রধান নিশানা এখন পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনী ও বিমানবাহী রণতরি। সম্প্রতি মার্কিন বাহিনীর খুব কাছাকাছি একাধিক ওয়ারহেডযুক্ত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে হামলা আরও জোরদার হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটির বাইরেও তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থ ও বিভিন্ন কোম্পানির স্থাপনায় আঘাত হানা হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
পেন্টাগনের আরব উপদ্বীপবিষয়ক সাবেক পরিচালক ডেভিড ডেস রোচেস জানান, ওয়াশিংটন হয়তো এই ৩ শর্তকে প্রাথমিক দৃষ্টিতে আন্তরিকতার চেয়ে ইরানের 'আংশিক আত্মসমর্পণ' বা নমনীয়তা হিসেবে দেখতে পারে। তবে গুরুত্বের বিষয় হলো—ইরান আগে যুদ্ধের যে বিপুল ক্ষতিপূরণ (Damage Compensation) চেয়েছিল, বর্তমান প্রস্তাবে সেই শর্ত থেকে তারা সরে এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা থামানোর জন্য এখন কাতার ও পাকিস্তান জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
| বিষয় | ইরানের অবস্থান ও শর্তসমূহ | মার্কিন প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ |
|---|---|---|
| কূটনৈতিক মাধ্যম | কাতারের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। | ওয়াশিংটন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি। |
| মূল ৩টি দাবি | ১. সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ২. অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়, ৩. নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া। | আগের ক্ষতিপূরণের দাবি বর্জন করেছে ইরান। |
| সামরিক কৌশল | পারস্য ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ। | রণতরীর কাছে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল মহড়ায় উদ্বেগ। |
| যুদ্ধের পটভূমি | ফেব্রুয়ারিতে যৌথ হামলায় খামেনি নিহতের পর সংঘাতের সূচনা। | আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য পাকিস্তান ও কাতারের চেষ্টা। |