অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহার বন্ধে বয়সভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে অভিভাবকের সম্মতি, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ, কনটেন্ট ফিল্টারিং এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশে মোবাইল সিম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হলেও বাস্তবে দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ মোবাইল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন। ফলে সিম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলেও হ্যান্ডসেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো বয়সসীমা বা সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় শিশু-কিশোরদের হাতে সহজেই স্মার্টফোন পৌঁছে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, শিশুদের হাতে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অবাধ ব্যবহার তাদের শিক্ষা, মানসিক বিকাশ, সামাজিক আচরণ ও নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য মোবাইল হ্যান্ডসেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক নীতিমালা প্রয়োজন।
সংগঠনটি বলেছে, শিশুদের সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তি থেকে বিচ্ছিন্ন না করে বয়স অনুযায়ী এবং অভিভাবকের নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। নির্দিষ্ট বয়সের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, অভিভাবকের সম্মতি, স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট ফিল্টারিংয়ের মতো ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ, অনলাইন আসক্তি, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক শিক্ষা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট চুরি ও ছিনতাইও গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুরি হওয়া হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ গ্রাহকও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
এ সমস্যা মোকাবিলায় হ্যান্ডসেটের আইএমইআই (IMEI) নম্বরভিত্তিক নিবন্ধন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। চুরি বা ছিনতাই হওয়া হ্যান্ডসেট দ্রুত শনাক্ত করে নেটওয়ার্ক থেকে নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি অবৈধভাবে এসব হ্যান্ডসেট কেনাবেচা বন্ধে দোকান ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নজরদারি বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, সরকার, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), মোবাইল অপারেটর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে শিশুবান্ধব ও নিরাপদ ডিজিটাল নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। পাশাপাশি হ্যান্ডসেট চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং চোরাই হ্যান্ডসেটের বাজার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করার জন্য; শিশুদের ক্ষতির কারণ হওয়ার জন্য নয়। তাই প্রযুক্তির ব্যবহার বন্ধ না করে নিরাপদ, নিয়ন্ত্রিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।