
ইংল্যান্ডে গতিসীমা লঙ্ঘন এবং চালকের পরিচয় জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় ছয় মাসের জন্য গাড়ি চালানোর নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন মিশরীয় তারকা ফুটবলার মোহাম্মদ সালাহ। একই সাথে তাকে ১ হাজার ৪৪ পাউন্ড জরিমানা করেছে যুক্তরাজ্যের একটি আদালত।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ২৭ মার্চ। চেশায়ারের উইল্মসলো এলাকায় ৩০ মাইল (প্রায় ৪৮ কিলোমিটার) গতিসীমার একটি সড়কে সালাহর বিলাসবহুল রোলস-রয়েস স্পেক্টর গাড়িটি ঘণ্টায় ৩৬ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার) বেগে চলতে ধরা পড়ে।
তবে ঘটনার সময় গাড়িটির চালক কে ছিলেন, চেশায়ার পুলিশের সে সংক্রান্ত নোটিশের কোনো জবাব দেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এমনকি পরবর্তীতে আদালতের প্রেরিত নোটিশেরও কোনো উত্তর দেননি তিনি।
ওয়ারিংটন কম্বাইন্ড কোর্টে ‘সিঙ্গেল জাস্টিস প্রোসিডিউর’-এর আওতায় মামলাটির শুনানি শেষে আদালত তাকে চালকের তথ্য গোপন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে এই শাস্তি ঘোষণা করে।
যে বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়িটি নিয়ে এই ঘটনা, সেটির বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ইউরোরও বেশি (প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার ডলার)।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল লিভারপুল থেকে সালাহর বিদায় ঘোষণার ঠিক দুই দিন পর। দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারে লিভারপুলের হয়ে ৪৪২ ম্যাচে ২৫৭টি গোল করেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে অ্যানফিল্ডের পাঠ চুকিয়ে তিনি যোগ দেন তুর্কি ক্লাব ট্রাবজোনস্পরে।
বর্তমানে তুরস্কে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন সালাহ। সম্প্রতি গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে ৪-০ গোলের জয়ে হ্যাটট্রিক ও একটি অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় আসেন তিনি। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে সাতটি গোল করে ফেলেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ইংল্যান্ডে সালাহর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা এটিই প্রথম নয়।
২০২২ সাল: ফেরারি গাড়ি চালিয়ে গতিসীমা অতিক্রম করার দায়ে তাকে জরিমানা করা হয় এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্সে তিনটি পেনাল্টি পয়েন্ট যোগ হয়।
২০১৮ সাল: অ্যানফিল্ডের কাছে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে সেবার পুলিশ কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি।
ইংল্যান্ডের পাঠ চুকিয়ে তুরস্কে নতুন অধ্যায় শুরু করলেও পুরনো এই ট্রাফিক মামলার জেরে আবারও যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমের খবরের শিরোনাম হলেন মিশরের এই অধিনায়ক।
সূত্র: সামা টিভি অনলাইন