
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে গত রোববার সন্ধ্যায় বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া জাবেদ আহমেদ (৫১) নামের এক ব্যক্তির ভাসমান লাশ রাজধানীর ধানমন্ডি লেক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর খবরের ভিত্তিতে ধানমন্ডি ১০ নম্বর সড়কের একটি সেতুর নিচ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাবেদ পেশায় একজন মার্কেটিং কনসালট্যান্ট হলেও দীর্ঘদিন বেকারত্বের কারণে মানসিক চাপে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ধানমন্ডি থানা-পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে এক নাগরিক কল দিয়ে ধানমন্ডি লেকে ভাসমান লাশের খবর দেন। খবর পেয়ে ১০ নম্বর সড়কের একটি হোটেলের পেছনের সেতুর নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের পর তাঁর স্ত্রী হাসপাতালে এসে লাশটি স্বামীর বলে শনাক্ত করেন।
ধানমন্ডি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আব্দুল গফুর জানান, জাবেদ আহমেদ রোববার সন্ধ্যায় বের হওয়ার পর আর ঘরে ফেরেননি। স্বজনরা যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে ভাটারা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। স্বজনদের থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, জাবেদ পেশায় বিপণন পরামর্শক (মার্কেটিং কনসালট্যান্ট) হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মহীন ছিলেন। আর্থিক অনটন এবং পারিবারিক দায়ভার নিয়ে তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় ছিলেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন তিনি।
পুলিশের ট্র্যাকিং অনুযায়ী জাবেদ আহমেদের সর্বশেষ অবস্থান ছিল রাজধানীর কলাবাগানে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা নাকি কোনোভাবে পানিতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছিল— তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও বিশদ তদন্তের পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছে ধানমন্ডি থানা-পুলিশ।
| প্যারামিটার | ঘটনা ও তথ্য | বর্তমান অগ্রগতি |
|---|---|---|
| নিহতের পরিচয় | জাবেদ আহমেদ (৫১), এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা। | এনআইডি দ্বারা সনাক্তকৃত। |
| উদ্ধারের স্থান | ধানমন্ডি ১০ নম্বর সড়কের সেতুর নিচে লেকের পানি। | মঙ্গলবার সকাল সাড় ৬টা। |
| পেশাগত অবস্থা | মার্কেটিং কনসালট্যান্ট (দীর্ঘদিন ধরে বেকার)। | আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়। |
| আইনি প্রক্রিয়া | সুরতহাল শেষে ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত। | মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত। |