স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল
রাষ্ট্র কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; রাষ্ট্র হলো জাতির অস্তিত্ব, সার্বভৌমত্ব ও সম্মিলিত চেতনার প্রতীক। ব্যক্তি যেমন নিজের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে ভালোবাসে, তেমনি রাষ্ট্রকেও ভালোবাসতে হবে নিজের অস্তিত্বের অংশ হিসেবে। কারণ ব্যক্তি টিকে থাকে রাষ্ট্রের ভেতরেই, রাষ্ট্র শক্তিশালী হলেই নাগরিকের সম্মান ও স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়।
রাষ্ট্রীয়বাদী দৃষ্টিকোণ থেকে রাষ্ট্রের স্বার্থ সর্বাগ্রে। ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর স্বার্থ কখনো রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে হতে পারে না। আজকের বিশ্বে যেসব জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে, তারা রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছে। জাপান, চীন কিংবা তুরস্কের মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় চেতনা নাগরিকদের ভেতরে গভীরভাবে প্রোথিত। ফলে নাগরিকরা রাষ্ট্রের উন্নয়নকে নিজেদের উন্নয়ন বলেই মনে করে।
আমাদের সমাজে একটি বড় সংকট হলো—রাষ্ট্রকে আমরা অধিকারের জায়গা থেকে দেখি, কিন্তু দায়িত্বের জায়গা থেকে খুব কমই ভাবি। নাগরিকরা রাষ্ট্রের কাছে সেবা চায়, নিরাপত্তা চায়, উন্নয়ন চায়; অথচ রাষ্ট্রের প্রতি নিজের কর্তব্য পালনে অনেকেই উদাসীন। কর ফাঁকি, দুর্নীতি, আইন অমান্য কিংবা জনসম্পদ নষ্ট করা—এসব কর্মকাণ্ড মূলত রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। একজন ব্যক্তি যখন নিজের ঘরবাড়ি রক্ষা করে কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হতে দেখে নীরব থাকে, তখন সে প্রকৃত অর্থে রাষ্ট্রপ্রেমিক নয়।
রাষ্ট্রীয়বাদ শেখায়, ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের সম্পর্ক আত্মার সঙ্গে দেহের সম্পর্কের মতো। রাষ্ট্র দুর্বল হলে ব্যক্তি কখনো নিরাপদ থাকতে পারে না। তাই রাষ্ট্রের আইন, শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, বিভাজন কিংবা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা মানে নিজের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তোলা।
আজ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই স্বাধীন মতপ্রকাশের নামে রাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবকে উসকে দেয়। সমালোচনা অবশ্যই গণতন্ত্রের অংশ, তবে সেই সমালোচনা হতে হবে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য, রাষ্ট্রকে দুর্বল করার জন্য নয়। রাষ্ট্রীয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি বলে—রাষ্ট্রের মর্যাদা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করেই সংস্কার ও উন্নয়নের পথ খুঁজতে হবে।
নিজেকে ভালোবাসার অর্থ যদি হয় নিজের সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা, তবে রাষ্ট্রকে ভালোবাসার অর্থ হলো দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। একজন প্রকৃত নাগরিক কখনো দেশের ক্ষতি করে নিজের লাভ খোঁজে না। কারণ রাষ্ট্রের ক্ষতি মানেই শেষ পর্যন্ত নিজের ক্ষতি।
আজ প্রয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় চেতনা গড়ে তোলা। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে এমন এক নাগরিক সমাজ গঠন করতে হবে, যারা বুঝবে—রাষ্ট্র বেঁচে থাকলেই ব্যক্তি বেঁচে থাকবে। নিজের অস্তিত্বকে যেমন ভালোবাসি, তেমনি রাষ্ট্রকেও ভালোবাসতে হবে দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে।
রাষ্ট্রপ্রেম কেবল আবেগ নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি দায়িত্ব এবং একটি জাতীয় অঙ্গীকার। আর সেই অঙ্গীকারের মূল কথাই হলো—নিজেকে যেভাবে ভালোবাসবে, সেভাবেই রাষ্ট্রকেও ভালোবাসবে।
লেখক: স্পীন ডক্টর ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেল (সিইও, প্রতিষ্ঠাতা: বাংলাদেশ সাপোর্টার্স ফোরাম)
[বি.দ্র. : এটি কারো প্রতি চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব মতামত রয়েছে। রাষ্ট্রীয়বাদী ক্লিন্টন হাওলাদার পাভেলের নিজস্ব মতের পরিপ্রেক্ষিতে লেখা। ]