
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন কভার করতে আসা সিএনএনের সাংবাদিক কেটলান কলিন্সের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিবেশন চলাকালে তাঁদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় এবং পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই সাংবাদিককে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে।
সংবাদসংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সিএনএনের সাংবাদিক কেটলান কলিন্স ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন—ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কবে শেষ হতে পারে। জবাবে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "আপনার তো এখানে এসে আমাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করারই কথা নয়। আপনারা তো নিজেই বলেছিলেন যে আমাকে কভার করবেন না।"
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে কলিন্স জানান, জাতিসংঘ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাঁকে ও সিএনএনকে ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিয়েছে।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প কেটলান কলিন্সকে ‘তৃতীয় শ্রেণির প্রতিবেদক’ বলে আখ্যা দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সংবাদকক্ষে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকেরা কেন এত সমালোচনা করছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, মূলধারার গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে তাঁকে ঘিরে এক ধরনের ‘আসক্তি’ কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের ‘অসুস্থ, বিশ্বাসঘাতক ও বিকৃত’ বলেও কটাক্ষ করেন।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন প্রেস অ্যাক্সেস বাতিলের সিদ্ধান্তের আওতায় সিএনএন, পলিটিকো এবং এমএস নাও-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস কমপ্লেক্সে প্রবেশ ও নিয়মিত ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার অনুমতি স্থগিত করে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমগুলো এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। বর্তমানে ওয়াশিংটনে নির্বাহী ক্ষমতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।