নিউজ প্রোভাইডারঃ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে আয়োজিত 'ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ'-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটনের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
সংবাদসূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা, সামাজিক ব্যবসা এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রযুক্তি ও তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ইউনূসের প্রবর্তিত 'ক্ষুদ্রঋণ' ধারণার শুরু থেকেই অন্যতম প্রধান সমর্থক ও বিশ্বমঞ্চে তা প্রচারক ছিলেন বিল ক্লিনটন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৯২ সালে আমেরিকার আর্কানসাস রাজ্যের গভর্নর থাকাকালীন সময়ে বিল ক্লিনটন অধ্যাপক ইউনূসের সাথে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেছিলেন। সেই সময় আর্কানসাসে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ মডেল কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গৃহীত হয়, যা পরবর্তীতে পুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিম্ন-আয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ বিকাশে ভূমিকা রাখে।
অন্যদিকে হিলারি ক্লিনটনও দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্বজুড়ে নারীর ক্ষমতায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা হিসেবে কাজ করে আসছেন। ১৯৯৫ সালে হিলারি ক্লিনটন তাঁর কন্যা চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন এবং সরেজমিনে গ্রামীণ ব্যাংক পরিদর্শন করেন। সেই সফরকালে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ কীভাবে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তিনি।
ক্লিনটন দম্পতির সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের এই সুদীর্ঘ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে নতুন করে তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।